পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ৬.০৪ ।।
পদার্থের তাপীয় প্রসারণ পরীক্ষা বলতে বোঝায়
তাপ প্রয়োগে কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল ও আয়তনের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা, যা সাধারণত একটি ধাতব দণ্ড (যেমন তামা বা লোহা) বা একটি
তরল পদার্থ (যেমন পারদ)
ডাইলাটোমিটার বা
সাধারণ যন্ত্রপাতির সাহায্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে মাপা হয়, যেখানে অণুগুলোর কম্পন বেড়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যকার গড় দূরত্ব বাড়ে, ফলে বস্তুটি প্রসারিত হয়।
পরীক্ষার মূলনীতি (Principle):
- তাপ দিলে পদার্থের কণাগুলোর গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তারা বেশি কম্পিত হতে শুরু করে।
- এই কম্পনের ফলে কণাগুলোর মধ্যে গড় দূরত্ব বেড়ে যায়, যার কারণে পদার্থের সামগ্রিক আকার (দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল, আয়তন) বৃদ্ধি পায়, একেই তাপীয় প্রসারণ বলে।
পরীক্ষার প্রকারভেদ ও পদ্ধতি:
- কঠিন পদার্থের রৈখিক প্রসারণ পরীক্ষা:
- যন্ত্র: ডাইলাটোমিটার (Dilatometer) বা সাধারণ মাপার যন্ত্র।
- পদ্ধতি: একটি ধাতব দণ্ডকে ডাইলাটোমিটারে স্থাপন করে তার প্রাথমিক দৈর্ঘ্য মাপা হয়। এরপর নির্দিষ্ট হারে (যেমন প্রতি মিনিটে ১০°C) দণ্ডটিকে উত্তপ্ত করা হয় এবং তাপমাত্রা ও দৈর্ঘ্য পরিবর্তন রেকর্ড করা হয়।
- পর্যবেক্ষণ: তাপ বাড়ার সাথে সাথে দণ্ডের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়, যা থেকে রৈখিক প্রসারণ গুণাঙ্ক () নির্ণয় করা যায়।
- তরল পদার্থের আয়তন প্রসারণ পরীক্ষা:
- যন্ত্র: আয়তন প্রসারণ মাপক (Volume Expansion Apparatus) বা সাধারণ পরীক্ষার পাত্র (যেমন বীকার বা ফ্লাস্ক), থার্মোমিটার, স্পিরিট ল্যাম্প।
- পদ্ধতি: একটি নির্দিষ্ট আয়তনের তরলকে পাত্রে নিয়ে প্রাথমিক আয়তন ও তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এরপর তাপ প্রয়োগ করে তাপমাত্রা বাড়ানো হয় এবং নতুন আয়তন মাপা হয়।
- পর্যবেক্ষণ: তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে তরলের আয়তন বাড়ে, যা থেকে আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক (β) নির্ণয় করা যায়। কঠিনের তুলনায় তরলের প্রসারণ বেশি হয়।
সাধারণ উদাহরণ:
- রেললাইনের মাঝে ফাঁক রাখা হয়, যাতে গরমকালে প্রসারণের জন্য জায়গা থাকে।
- থার্মোমিটারে পারদের ব্যবহার (তাপমাত্রা অনুযায়ী প্রসারণ)।
এই পরীক্ষাগুলো পদার্থের তাপীয় ধর্ম বুঝতে এবং বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ জানতে সাহায্য করে।