পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ৬.০৮ ।।
তাপের প্রভাবে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, যেখানে তাপ শোষণ বা বর্জন করে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থার মধ্যে রূপান্তর হয়; তাপ দিলে কণার গতিশক্তি বাড়ে, ফলে কঠিন থেকে তরল (গলন) ও তরল থেকে গ্যাস (বাষ্পীভবন) হয়, আবার তাপ অপসারণে উল্টোটা ঘটে (কঠিনীভবন, ঘনীভবন), এবং এই পরিবর্তনের সময় তাপমাত্রা স্থির থাকে ও 'লীন তাপ' প্রয়োজন হয়।
তাপের প্রভাবে অবস্থার পরিবর্তন প্রক্রিয়া:
- কঠিন থেকে তরল (গলন): কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তার কণাগুলো বেশি শক্তি পায় এবং কম্পন বেড়ে যায়। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (গলনাঙ্ক) পৌঁছালে, কণাগুলো আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কাটিয়ে আরও স্বাধীনভাবে চলাচল শুরু করে এবং পদার্থটি তরলে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে গলন বলে।
- তরল থেকে গ্যাস (বাষ্পীভবন): তরলকে আরও তাপ দিলে তাপমাত্রা বাড়ে এবং একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (স্ফুটনাঙ্ক) পৌঁছালে কণাগুলো যথেষ্ট গতিশক্তি অর্জন করে একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়ে গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তরিত হয়।
- গ্যাস থেকে তরল (ঘনীভবন): গ্যাসীয় পদার্থ থেকে তাপ সরিয়ে নিলে কণাগুলোর গতিশক্তি কমে যায় এবং তারা কাছাকাছি এসে তরলে পরিণত হয়।
- তরল থেকে কঠিন (কঠিনীভবন/হিমাঙ্ক): তরলকে ঠান্ডা করলে কণার গতিশক্তি কমে যায় এবং একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (হিমাঙ্ক) তারা নির্দিষ্ট স্থানে আবদ্ধ হয়ে কঠিন আকার ধারণ করে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- লীন তাপ (Latent Heat): অবস্থার পরিবর্তনের সময় পদার্থ তাপ শোষণ বা বর্জন করলেও তার তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। এই তাপকে লীন তাপ বলে (যেমন, গলনের লীন তাপ, বাষ্পীভবনের লীন তাপ)।
- কণার গতিশক্তি: তাপ প্রয়োগে কণার কম্পন ও গতি বৃদ্ধি পায়, ফলে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ দুর্বল হয়; তাপ অপসারণে বিপরীত ঘটনা ঘটে।
সংক্ষেপে, তাপ পদার্থের অণুগুলোর মধ্যেকার শক্তি ও গতির পরিবর্তন ঘটায়, যার ফলে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থার মধ্যে পরিবর্তন সম্ভব হয়।