পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ৯.১০ ।।
অপটিক্যাল ফাইবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের নীতিতে কাজ করে, যেখানে আলোকরশ্মি ফাইবারের কোর (কেন্দ্র) থেকে বারবার বাউন্স করে, আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম (কোর) থেকে হালকা মাধ্যমে (ক্ল্যাডিং) যাওয়ার চেষ্টা করলে একটি নির্দিষ্ট কোণ (ক্রান্তি কোণ) অতিক্রম করলে তা প্রতিফলিত হয়ে আবার কোরের ভেতরেই ফিরে আসে, যার ফলে তথ্য বা ডেটা কোনো ক্ষতি ছাড়াই সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পারে এবং টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবায় ব্যবহৃত হয়।
পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন যেভাবে কাজ করে:
- গঠন: অপটিক্যাল ফাইবার দুটি ভিন্ন প্রতিসরাঙ্কের (Refractive Index) স্বচ্ছ পদার্থ দিয়ে তৈরি: বাইরের স্তর (ক্ল্যাডিং) যার প্রতিসরাঙ্ক কম এবং ভেতরের কোর যার প্রতিসরাঙ্ক বেশি।
- আলোক প্রবেশ: যখন আলোকরশ্মি কোরের এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে, তখন এটি কোরের ভেতরের পৃষ্ঠে আঘাত করে।
- ঘন থেকে হালকা: আলো ঘন মাধ্যম (কোর) থেকে হালকা মাধ্যমে (ক্ল্যাডিং) যাওয়ার চেষ্টা করে।
- ক্রান্তি কোণ: যদি আপতন কোণ (Angle of Incidence) ক্রান্তি কোণের (Critical Angle) চেয়ে বড় হয়, তাহলে আলোকরশ্মি প্রতিসরণের পরিবর্তে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত হয়ে আবার কোরের মধ্যে ফিরে আসে।
- ধারাবাহিক প্রতিফলন: এই প্রক্রিয়াটি ফাইবারের দৈর্ঘ্য বরাবর চলতে থাকে, ফলে আলোকরশ্মি এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছায়, যা তথ্যের দ্রুত ও নির্ভুল পরিবহনে সাহায্য করে।
গুরুত্ব:
- টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং অন্যান্য ডেটা কমিউনিকেশনে ব্যবহৃত হয়।
- চিকিৎসাবিদ্যায় এন্ডোস্কোপিতে এর ব্যবহার আছে।
- অত্যন্ত সরু ও নমনীয় হওয়ায় সহজে ব্যবহার করা যায়।