পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ৯.১৩ ।।
প্রিজম (Prism) হলো এমন একটি ঘনবস্তু যার দুটি প্রান্ত বা ভূমি সর্বসম ও সমান্তরাল বহুভুজ (যেমন ত্রিভুজ, বর্গক্ষেত্র) এবং অন্যান্য তলগুলো সামান্তরিকক্ষেত্র বা আয়তক্ষেত্র দ্বারা আবদ্ধ থাকে। আলোকবিজ্ঞানে, এটি কাচ বা স্বচ্ছ উপাদানের তৈরি একটি ত্রিকোণাকৃতির বস্তু, যা সাদা আলোকে তার উপাদান বর্ণালীতে (যেমন রংধনু) বিভক্ত করে। জ্যামিতিক প্রিজমের আয়তন = ভূমি ক্ষেত্রফল × উচ্চতা এবং এটি বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে, যেমন ত্রিভুজাকার প্রিজম, ষড়ভুজাকার প্রিজম ইত্যাদি।
জ্যামিতিক প্রিজম
- সংজ্ঞা: দুটি সমান্তরাল ও সর্বসম বহুভুজাকার ভূমি এবং তাদের সংযুক্ত সামান্তরিক বা আয়তাকার পার্শ্বতল নিয়ে গঠিত ত্রিমাত্রিক আকৃতি।
- উদাহরণ: ত্রিভুজাকার প্রিজম (দুটি ত্রিভুজাকার ভূমি), ঘনক (বর্গাকার প্রিজম), আয়তাকার প্রিজম।
- বৈশিষ্ট্য: ভূমির আকৃতি অনুযায়ী এর নাম হয় (যেমন, পঞ্চভুজাকার প্রিজম)।
আলোকবিজ্ঞানের প্রিজম
- সংজ্ঞা: স্বচ্ছ পদার্থে (সাধারণত কাচ) তৈরি একটি বিশেষ আকৃতির বস্তু, যা আলোর প্রতিসরণে সাহায্য করে।
- কাজ: সাদা আলোকে তার বর্ণালীতে (সাতটি রঙ) বিভক্ত করা (যেমন রংধনু সৃষ্টি)।
- ব্যবহার: বাইনোকুলার, পেরিস্কোপ, মাইক্রোস্কোপের মতো যন্ত্রে প্রতিবিম্ব তৈরি ও দিক পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
মূল পার্থক্য
- জ্যামিতিক প্রিজম: একটি আকৃতি, যার তল বা পৃষ্ঠ থাকে।
- আলোকবিজ্ঞানের প্রিজম: একটি স্বচ্ছ বস্তু, যা আলোর সাথে মিথস্ক্রিয়া করে।