চোখের প্রধান কাজ হলো আলোকরশ্মি গ্রহণ করে সেটিকে মস্তিষ্কে পাঠানো, যা পরে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত হয়; এর জন্য কর্নিয়া, লেন্স, আইরিস, রেটিনা ও অপটিক নার্ভ কাজ করে, যেখানে আলোকরশ্মি প্রথমে কর্নিয়া ও লেন্সের মাধ্যমে প্রতিসরিত হয়ে রেটিনায় উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরি করে, যা পরে অপটিক নার্ভের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে এবং মস্তিষ্ক সেটিকে সোজা করে দেখে।
চোখের ক্রিয়া প্রক্রিয়া:
- আলো প্রবেশ: কোনো বস্তু থেকে আসা আলোকরশ্মি চোখের বাইরে থেকে কর্নিয়ার (Cornea) ওপর পড়ে, যা আলোকে কিছুটা বাঁকিয়ে দেয়।
- আলো নিয়ন্ত্রণ: এরপর আলো আইরিস (Iris) ও পিউপিলের (Pupil) মধ্য দিয়ে লেন্সে (Lens) প্রবেশ করে। আইরিস পিউপিলের আকার নিয়ন্ত্রণ করে, যার ফলে চোখে আলোর প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ হয়।
- প্রতিবিম্ব গঠন: চোখের লেন্স একটি উত্তল লেন্সের মতো কাজ করে এবং আলোকরশ্মিকে রেটিনার (Retina) ওপর ফোকাস করে একটি উল্টো প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
- সংকেত রূপান্তর: রেটিনায় থাকা আলোক সংবেদী কোষগুলো (photoreceptor cells) এই উল্টো প্রতিবিম্বকে রাসায়নিক ও বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত করে।
- মস্তিষ্কে প্রেরণ: অপটিক নার্ভ বা অক্ষি স্নায়ুর মাধ্যমে এই সংকেত মস্তিষ্কে পাঠানো হয়।
- দৃশ্য উপলব্ধি: মস্তিষ্ক রেটিনায় সৃষ্ট উল্টো প্রতিবিম্বকে সোজা করে নেয়, ফলে আমরা বস্তুটি স্বাভাবিকভাবে দেখতে পাই।
- কর্নিয়া: চোখের বাইরের স্বচ্ছ স্তর, যা প্রথম আলো প্রবেশ করায় ও প্রতিসরণ ঘটায়।
- আইরিস ও পিউপিল: পিউপিলের আকার নিয়ন্ত্রণ করে চোখে আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লেন্স: রেটিনার ওপর প্রতিবিম্ব ফোকাস করতে সাহায্য করে, এটি একটি দ্বি-উত্তল লেন্স।
- রেটিনা: আলো গ্রহণ করে সংকেতে রূপান্তরিত করে।
- অপটিক নার্ভ: মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়।
- উপযোজন (Accommodation): লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন করে বিভিন্ন দূরত্বে থাকা বস্তু স্পষ্ট দেখার প্রক্রিয়া।