তড়িৎ চালক শক্তি (EMF) হলো একটি উৎসের (যেমন ব্যাটারি) প্রতি একক চার্জকে সম্পূর্ণ বর্তনীতে চালিত করতে প্রয়োজনীয় মোট কাজ, যা উৎস কর্তৃক প্রদত্ত শক্তি; আর বিভব পার্থক্য (Potential Difference) হলো বর্তনীর দুটি বিন্দুর মধ্যে প্রতি একক চার্জের সরণের ফলে কৃতকাজ বা শক্তির পার্থক্য, যা মূলত বিদ্যুৎ প্রবাহের কারণ। EMF উৎস থেকে শক্তি সরবরাহ করে, কিন্তু বিভব পার্থক্য সেই শক্তিরই ব্যবহার, যা বর্তনীর রোধের কারণে EMF-এর চেয়ে কম হয় (যখন প্রবাহ চলে)।
তড়িৎ চালক শক্তি (Electromotive Force - EMF)
সংজ্ঞা: কোনো উৎস (যেমন ব্যাটারি) এক কুলম্ব ধনাত্মক আধানকে উৎসসহ সম্পূর্ণ বর্তনী ঘুরিয়ে আনতে যে মোট কাজ করে, তাই তড়িৎ চালক শক্তি (EMF)।
উৎপত্তি: উৎসের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বা চৌম্বকীয় বল থেকে এর সৃষ্টি হয়।
প্রকৃতি: এটি একটি উৎস কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ শক্তি (ভোল্টেজ)।
প্রতীক:
Ecap E
𝐸
বা
ϵepsilon
𝜖
।
বিভব পার্থক্য (Potential Difference - PD)
সংজ্ঞা: বর্তনীর দুটি বিন্দুর মধ্যে প্রতি একক চার্জকে সরাতে যে কাজ হয়, তাকে বিভব পার্থক্য বা ভোল্টেজ বলে।
উৎপত্তি: এটি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের কাজের ফল এবং বিভবের পার্থক্য থেকে তৈরি হয়।
প্রকৃতি: এটি বর্তনীর দুই বিন্দুর মধ্যে ভোল্টেজের পার্থক্য, যা বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটায়।
প্রতীক:
Vcap V
𝑉
।
মূল পার্থক্য
সম্পর্ক: যখন বর্তনীতে কোনো তড়িৎ প্রবাহ থাকে না, তখন EMF এবং বিভব পার্থক্য সমান থাকে। কিন্তু প্রবাহ চালু থাকলে, রোধের কারণে কিছু শক্তি খরচ হওয়ায় বিভব পার্থক্য (V) EMF (E) থেকে কম হয় (
V<Ecap V is less than cap E
𝑉<𝐸
)।
দিক: EMF ধনাত্মক থেকে ঋণাত্মক দিকে আধানকে ঠেলে দেয়, আর বিভব পার্থক্য সেই আধানকে ঋণাত্মক থেকে ধনাত্মক দিকে যেতে সাহায্য করে (বর্তনীতে)।
কার্যকারণ: EMF হলো কারণ (শক্তির উৎস) এবং বিভব পার্থক্য হলো ফল (শক্তি ব্যবহার)।