প্রভাষক
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ মাদ্রাসা শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১
আলোচনাটি উপস্থাপন করেছেন আবদুল্লাহ আল মামুন আবরার , যিনি ছাগলনাইয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা-এর আরবি প্রভাষক ।
সূরার শুরুতে ব্যবহৃত "আলিফ-লাম-মীম" শব্দটিকে 'হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআত' বা বিচ্ছিন্ন অক্ষরমালা বলা হয় ।
উচ্চারণ: এগুলো শব্দের মতো একবারে পড়া হয় না, বরং প্রতিটি অক্ষর আলাদাভাবে উচ্চারিত হয় (যেমন: আলিফ... লাম... মীম...) ।
অর্থ: এর প্রকৃত অর্থ একমাত্র আল্লাহই জানেন, এর কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না ।
অলৌকিকতা: এটি কুরআনের একটি মু‘জিযা। আরবরা যেসব সাধারণ অক্ষর (আলিফ, বা, তা) দৈনন্দিন কথা বলতে ব্যবহার করত, কুরআন সেই একই অক্ষর দিয়ে গঠিত হলেও এর বিন্যাস ও গভীরতা মানুষের সাধ্যের বাইরে । এটি মানুষের তৈরি কোনো কিতাব নয় এবং এর মতো সূরা তৈরির চ্যালেঞ্জ কিয়ামত পর্যন্ত কেউ গ্রহণ করতে পারবে না ।
নামকরণ: 'বাকারাহ' শব্দের অর্থ গাভী। এই সূরার ৬৭-৭১ নং আয়াতে বনী ইসরাঈলের গাভী সংক্রান্ত ঘটনা থাকার কারণে এর নাম 'আল-বাকারাহ' রাখা হয়েছে ।
অবতরণ: এটি মদীনায় অবতীর্ণ অন্যতম বৃহৎ একটি সূরা ।
বিষয়বস্তুর বিন্যাস: মুজাহিদ (রহ.)-এর মতে সূরার শুরুর আয়াতগুলো এভাবে বিন্যস্ত:
প্রথম ৪টি আয়াত মু’মিনদের ব্যাপারে ।
পরবর্তী ২টি আয়াত কাফিরদের ব্যাপারে ।
পরবর্তী ১৩টি আয়াত মুনাফিকদের ব্যাপারে ।
স্লাইডগুলোতে এই সূরা পাঠের অসামান্য ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে:
প্রতিটি অক্ষরে নেকী: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, 'আলিফ-লাম-মীম' একটি অক্ষর নয়; বরং আলিফ, লাম ও মীম তিনটি পৃথক অক্ষর। প্রতিটি অক্ষরে একটি করে নেকী হয় এবং প্রতিটি নেকীর প্রতিদান দশগুণ পাওয়া যায় ।
শয়তান ও জাদুর প্রভাব থেকে সুরক্ষা: যে বাড়িতে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করা হয়, সেখান থেকে শয়তান পালিয়ে যায় । এটি জাদুকর ও বাতিল পন্থীদের মোকাবেলায় অত্যন্ত শক্তিশালী । নবীজি (সাঃ) ঘরকে কবরে পরিণত না করে কুরআন পাঠের মাধ্যমে জীবন্ত রাখতে বলেছেন ।
ফেরেশতাদের আগমন: হযরত উসাইদ বিন হুজাইর (রাঃ)-এর একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি রাতে সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত করার সময় মেঘের মতো আলো (ফেরেশতা) নেমে এসেছিল ।
কিয়ামতের দিন সুপারিশ: কিয়ামতের দিন সূরা বাকারাহ ও সূরা আলি-ইমরান মেঘমালা বা পাখির ঝাঁকের মতো এসে তিলাওয়াতকারীকে ছায়া দেবে এবং তার পক্ষে আল্লাহর দরবারে জোরালো সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যাবে ।
আয়াতুল কুরসী: এটি কুরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত। এটি পাঠ করলে সারারাত আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যায় ।
শেষ দুই আয়াত: যে ব্যক্তি রাতে এই সূরার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার যাবতীয় অকল্যাণ থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ট হবে ।
বিশাল ভাণ্ডার: ইমাম ইবনুল আরাবীর মতে, এই সূরায় ১০০০ আদেশ, ১০০০ নিষেধ ও ১০০০ সংবাদ রয়েছে ।
স্লাইডের শেষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার কথা বলা হয়েছে:
কুরআনের প্রতিটি অক্ষরই একটি মু‘জিযা ।
অর্থ না বুঝলেও তিলাওয়াতে প্রতিটি হরফে ১০টি করে নেকী পাওয়া যায় ।
বেশি বেশি সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত করে ঘরকে শয়তান মুক্ত রাখা উচিত ।
এর শিক্ষা গ্রহণ করা কল্যাণকর এবং বর্জন করা আফসোসের কারণ ।