পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ৯.১০ #
পেরিস্কোপ (Periscope) হলো এমন একটি যন্ত্র যা কোনো বাধা বা আড়াল থাকা সত্ত্বেও কোনো বস্তুকে দেখা বা পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে, এটি আলোর প্রতিফলন নীতিতে কাজ করে, যেখানে একটি লম্বা টিউবের দুই প্রান্তে ৪৫ ডিগ্রি কোণে দুটি আয়না বা প্রিজম বসানো থাকে, যা বস্তুর আলো প্রতিফলিত করে দর্শকের চোখে পৌঁছে দেয়, বিশেষত সাবমেরিন, সাঁজোয়া যান এবং সামরিক কৌশলগত পর্যবেক্ষণে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
পেরিস্কোপের গঠন ও কার্যপ্রণালী:
- গঠন: একটি সাধারণ পেরিস্কোপে একটি লম্বা টিউব থাকে এবং এর দুই প্রান্তে ৪৫° কোণে দুটি সমতল আয়না বা প্রিজম স্থাপন করা হয়, যা টিউবের অক্ষের সমান্তরাল থাকে।
- কার্যপ্রণালী:
- বস্তু থেকে আলোকরশ্মি উপরের আয়না বা প্রিজমটিতে ৪৫° কোণে আঘাত করে।
- আলোকরশ্মিটি প্রতিফলিত হয়ে টিউবের ভেতর দিয়ে নিচের দিকে যায়।
- এরপর নিচের আয়না বা প্রিজমটিতে ৪৫° কোণে আঘাত করে এবং আবার প্রতিফলিত হয়ে দর্শকের চোখে প্রবেশ করে, ফলে দর্শক বাধা ভেদ করে বস্তুটি দেখতে পায়।
ব্যবহার:
- সামরিক: সাবমেরিনে পানির নিচে থেকে উপরে বা যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুদের পর্যবেক্ষণ করতে।
- সাঁজোয়া যান: ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া যানে চারপাশের পরিস্থিতি দেখতে।
- চিকিৎসাবিদ্যা: সূক্ষ্ম ও বাধাযুক্ত স্থান পর্যবেক্ষণে।
- সাধারণ ব্যবহার: দেয়ালের ওপাশ বা কোণার আড়াল থেকে দেখার জন্য।
বৈশিষ্ট্য:
- এটি কোনো বিবর্ধন (magnification) তৈরি করে না।
- এটি আলোর প্রতিফলন নীতি (law of reflection) ব্যবহার করে।
- সাবমেরিনের জটিল পেরিস্কোপে দর্পণের পরিবর্তে প্রিজম ব্যবহার করা হয় এবং এতে বিবর্ধন ক্ষমতাও থাকে।