মানুষ কবিতার মূল বিষয়বস্তু হলো সাম্যবাদ, যেখানে কাজী নজরুল ইসলাম ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক ও অভিন্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন; মানবসেবাকে সর্বোচ্চ ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে ঈশ্বরের কাছে সবাই সমান, কিন্তু মানুষই ভেদাভেদ সৃষ্টি করে, তাই মানুষের হৃদয়ই প্রকৃত উপাসনালয় হওয়া উচিত। মূল বিষয়বস্তুর বিস্তারিত:
- সাম্যবাদ ও মানবতাবাদ: কবি ঘোষণা করেছেন যে সকল মানুষ একই সৃষ্টি, তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। মানুষ হিসেবেই তাদের আসল পরিচয় এবং মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম।
- ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরোধিতা: মসজিদে আজান বা মন্দিরে শঙ্খধ্বনি দিয়েও মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ তৈরি হয়, কবি তার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, যে হৃদয় পবিত্র, সেই হৃদয়ই ঈশ্বরের কাছে পূজনীয়।
- মানবসেবার গুরুত্ব: ক্ষুধার্তকে অন্নদান বা বিপন্নকে সাহায্য করাকে কবি সকল ধর্মের চেয়ে বড় কাজ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এটিই প্রকৃত ঈশ্বর-আরাধনা।
- হৃদয়কে উপাসনালয় করা: কবি বলেছেন, মানুষের হৃদয় যদি পবিত্র থাকে, সেখানে যদি হিংসা-বিদ্বেষ না থাকে, তবে সেটাই মন্দির-মসজিদ-গির্জার চেয়েও বড় তীর্থস্থান। হৃদয়ই হোক মানুষের আসল উপাসনার জায়গা।
- জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে মানুষ: কবিতাটি ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল মানুষের একতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেয় এবং দেখায় যে মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়।