প্রভাষক
২২ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ জীববিজ্ঞান ১ম পত্র
অধ্যায়ঃ তৃতীয় অধ্যায়: কোষ রসায়ন
গ্লুকোজ হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনোস্যাকারাইড বা সরল শর্করা, যার আণবিক সংকেত হলো C6H12O6। এটি উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় এবং জীবদেহে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।
গ্লুকোজের গঠনকে প্রধানত দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:
জার্মান বিজ্ঞানী এমিল ফিশার এই গঠনটি প্রস্তাব করেন। গ্লুকোজ একটি অ্যালডোহেক্সোজ, কারণ এতে ছয়টি কার্বন থাকে এবং ১ নম্বর কার্বনে একটি অ্যালডিহাইড মূলক (−CHO) থাকে।
কার্বন শিকল: ৬টি কার্বন পরমাণু লম্বালম্বিভাবে যুক্ত থাকে।
ফাংশনাল গ্রুপ: ১ নম্বর কার্বনে অ্যালডিহাইড গ্রুপ এবং ২ থেকে ৬ নম্বর কার্বনে হাইড্রোক্সিল (−OH) গ্রুপ থাকে।
অপ্রতিসম কার্বন: এর ২, ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর কার্বনগুলো হলো কাইরাল বা অপ্রতিসম কার্বন।
জলীয় দ্রবণে গ্লুকোজ সাধারণত লিনিয়ার অবস্থায় থাকে না, বরং এটি একটি চক্রাকার গঠন তৈরি করে। গ্লুকোজের ১ নম্বর কার্বনের অ্যালডিহাইড গ্রুপ ৫ নম্বর কার্বনের হাইড্রোক্সিল গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়ে এই বলয় তৈরি করে। একে গ্লুকোপাইরানোজ বলা হয়।
এই চক্রাকার গঠন দুই ধরনের হতে পারে (অ্যানোমার):
α-D-গ্লুকোজ: যখন ১ নম্বর কার্বনের হাইড্রোক্সিল (−OH) মূলকটি নিচের দিকে থাকে।
β-D-গ্লুকোজ: যখন ১ নম্বর কার্বনের হাইড্রোক্সিল (−OH) মূলকটি উপরের দিকে থাকে।
কার্বন সংখ্যা: ৬টি।
হাইড্রোজেন সংখ্যা: ১২টি।
অক্সিজেন সংখ্যা: ৬টি।
এটি একটি বিজারণক্ষম শর্করা (Reducing Sugar), কারণ এতে মুক্ত অ্যালডিহাইড গ্রুপ থাকে যা ফেইলিং দ্রবণ বা বেনেডিক্ট দ্রবণকে বিজারিত করতে পারে।