সহকারী শিক্ষক
১৬ জুন, ২০২৬ ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
প্রথম অধ্যায়: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত)
জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর।
প্রশ্ন-১। রোবোটিক্স (Robotics) কী?
উত্তর: প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন ও কাজ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সেই শাখাকে রোবোটিক্স বলে। বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে রোবটের ধারণা, নকশা, উৎপাদন, কার্যক্রম কিংবা ব্যবহার বাস্তবায়ন করাই হলো রোবোটিক্স। অন্যকথায়, কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ডিজাইন ও উৎপাদন সংক্রান্ত বিজ্ঞানই হলো রোবোটিক্স।
প্রশ্ন-২। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) কী?
উত্তর: মানুষ যেভাবে চিন্তা-ভাবনা করে, কৃত্রিম উপায়ে যদি কোনো যন্ত্রকে সেভাবে চিন্তা-ভাবনা করানো যায়, তখন সেই যন্ত্রের বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে।
প্রশ্ন-৩। ক্রায়োসার্জারি (Cryosurgery) কী?
উত্তর: ক্রায়োসার্জারি হচ্ছে একধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রা প্রয়োগ করে শরীরের ক্ষতিকর ও রোগাক্রান্ত টিস্যু ধ্বংস করা হয়।
প্রশ্ন-৪। বায়োইনফরমেটিক্স (Bioinformatics) কী?
উত্তর: বায়োইনফরমেটিক্স বা জৈব-তথ্যবিজ্ঞান হলো এমন এক প্রযুক্তি যা ফলিত গণিত, তথ্য বিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রসায়ন এবং জৈব-রসায়ন ব্যবহার করে জীববিজ্ঞানের সমস্যাসমূহ সমাধান করে। জীব সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনার কাজে কম্পিউটার প্রযুক্তির প্রয়োগই হলো বায়োইনফরমেটিক্স।
প্রশ্ন-৫। ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology) কী?
উত্তর: ন্যানোমিটার স্কেলে পরিমিত যেকোনো বিষয়ের বহুমাত্রিক প্রযুক্তিকে ন্যানোটেকনোলজি বা ন্যানোপ্রযুক্তি বলে। রিচার্ড ফাইনম্যানকে ন্যানোপ্রযুক্তির জনক বলা হয়।
প্রশ্ন-৬। হ্যাকিং (Hacking) কী?
উত্তর: প্রোগ্রাম রচনা ও প্রয়োগের মাধ্যমে অনুমতি ব্যতীত কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে কম্পিউটার হতে প্রয়োজনীয় ফাইল চুরি করা বা দেখাকে হ্যাকিং বলে। যে এই কাজটি করে তাকে হ্যাকার বলে। সাধারণত অনুমতি ব্যতীত কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে কম্পিউটার ব্যবহার করা অথবা কোনো কম্পিউটারকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়াই হ্যাকিং।
প্রশ্ন-৭। এক্সপার্ট সিস্টেম (Expert System) কী?
উত্তর: এক্সপার্ট সিস্টেম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) একটি শাখা যা মানুষের বিশেষজ্ঞের মতো কাজ করতে সক্ষম। এই সিস্টেমগুলো বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে বিস্তৃত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা ধারণ করে এবং সেই জ্ঞান ব্যবহার করে জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে।
প্রশ্ন-৮। আউটসোর্সিং (Outsourcing) কী?
উত্তর: পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশ তাদের অনলাইন নির্ভর কাজগুলো অন্য দেশের দক্ষ লোক দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে। এই ধরনের কাজগুলোকে বলা হয় আউটসোর্সিং। কোনো নির্দিষ্ট কাজ নিজেরা না করে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্যকে দিয়ে করিয়ে নেওয়াই হলো আউটসোর্সিং।
প্রশ্ন-৯। ন্যানো কাকে বলে?
উত্তর: এককের একশত কোটি ভাগের এক ভাগকে (১০-৯) ১ ন্যানো বলা হয়।
প্রশ্ন-১০। প্লেজিয়ারিজম (Plagiarism) কী?
উত্তর: অন্যের লেখা বা গবেষণালব্ধ তথ্য নিজের নামে চালিয়ে দেওয়াকে প্লেজিয়ারিজম বলে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লেখা, সাহিত্যকর্ম, গবেষণাপত্র, সম্পাদনা কর্ম ইত্যাদি হুবহু নকল বা আংশিক পরিবর্তন করে নিজের নামে প্রকাশ করাই হচ্ছে প্লেজিয়ারিজম।
প্রশ্ন-১১। অ্যাকচুয়েটর (Actuator) কী?
উত্তর: অ্যাকচুয়েটর হচ্ছে এমন এক ধরনের মোটর যেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরানো ও যান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অ্যাকচুয়েটরের সাহায্যে রোবটের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবহার ও নাড়াচাড়া করানো হয়।
প্রশ্ন-১২। ফ্লাইট সিমুলেশন (Flight Simulation) কী?
উত্তর: যে পদ্ধতিতে বিমান চালকগণ (পাইলট) বাস্তবে বিমান না উড়িয়ে কম্পিউটারের মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশে বিমান চালনার যাবতীয় কৌশল রপ্ত করেন, তাকে ফ্লাইট সিমুলেশন বলে।
প্রশ্ন-১৩। ই-মেইল (E-mail) কী?
উত্তর: ই-মেইল হচ্ছে ইলেকট্রনিক মেইল (Electronic Mail) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ ইন্টারনেট ব্যবহার করে কোনো তথ্য বা সংবাদ দূরে কোথাও পাঠানো বা গ্রহণ করার প্রক্রিয়াকে ই-মেইল বলে।
প্রশ্ন-১৪। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic Engineering) কী?
উত্তর: কোনো জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী DNA খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশলই হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
প্রশ্ন-১৫। সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) কী?
উত্তর: কম্পিউটার ভিত্তিক কিংবা নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট ভিত্তিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ বলা হয়।
প্রশ্ন-১৬। হ্যান্ড জিওমেট্রি (Hand Geometry) কী?
উত্তর: হ্যান্ড জিওমেট্রি হচ্ছে বায়োমেট্রিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে মানুষের হাতের আকৃতি বা জ্যামিতিক গঠন ও সাইজ নির্ণয়ের মাধ্যমে মানুষকে অদ্বিতীয়ভাবে সনাক্ত করার পদ্ধতি।
প্রশ্ন-১৭। রোবট (Robot) কী?
উত্তর: রোবট হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এক ধরনের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যান্ত্রিক ব্যবস্থা যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কোনো ব্যক্তির নির্দেশে কাজ করতে পারে। এটি তৈরি হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতিতে।
প্রশ্ন-১৮। স্মার্ট হোম (Smart Home) কী?
উত্তর: স্মার্ট হোম এমন একটি বাসস্থান যেখানে রিমোট কন্ট্রোলিং এবং প্রোগ্রামিং ডিভাইসের সাহায্যে একটি বাড়ির হিটিং, কুলিং, লাইটিং, সিকিউরিটি কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এটি একটি হোম অটোমেশন সিস্টেম।
প্রশ্ন-১৯। ক্রায়োপ্রোব (Cryoprobe) কী?
উত্তর: ক্রায়োপ্রোব হচ্ছে ক্রায়োসার্জারিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এক ধরনের আল্ট্রাথিন সুচ ও মাইক্রো ক্যামেরাযুক্ত নল, যা দিয়ে ক্ষতস্থান শনাক্ত করে নির্ধারিত ক্রায়োজেনিক গ্যাস প্রবেশ করানো হয়।
প্রশ্ন-২০। CAD কী?
উত্তর: CAD হচ্ছে Computer Aided Drafting/Design। যার সাহায্যে কম্পিউটার দিয়ে সাধারণ ড্রইং ছাড়াও যেকোনো কিছুর নিখুঁত ডিজাইন, ব্লক, সিম্বল, লোগো ডিজাইন, গ্রিল ডিজাইন, এমব্রয়ডারী ডিজাইন ইত্যাদি করা যায়।
প্রশ্ন-২১। টেলিমেডিসিন (Telemedicine) কী?
উত্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভৌগলিক দূরত্বে অবস্থানরত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াই হচ্ছে টেলিমেডিসিন।
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর।
প্রশ্ন-১। দূরশিক্ষণ বা ডিস্টেন্স লার্নিং বা ই-লার্নিং কী?
উত্তর: শিক্ষা গ্রহণের জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে গ্রাম থেকে শহরে কিংবা একদেশ থেকে অন্য দেশে যেতে হয় না। অপরদিকে শিক্ষকও ঘরে বসেই শিক্ষা দান করতে পারেন। এমনকি একজন শিক্ষার্থী অনলাইনেই পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে যাচাই করতে পারে এবং ঘরে বসেই ফলাফল দেখতে পারে। এতে সময়, অর্থ ও পরিশ্রম সাশ্রয় হয়। এই ধারণাকে বলা হয় দূরশিক্ষণ বা ডিস্টেন্স লার্নিং বা ই-লার্নিং।
প্রশ্ন-২। অফিস অটোমেশন কী?
উত্তর: তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে অফিসের সার্বিক কার্যক্রমের (প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তৈরি ও সংরক্ষণ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃযোগাযোগ ইত্যাদি) বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তথা বাস্তবায়ন কার্যক্রম দক্ষতার সাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যায়। এই ধরনের প্রযুক্তি নির্ভর কার্যক্রমকে বলা হয় অফিস অটোমেশন।
প্রশ্ন-৩। স্মার্ট হোম বা হোম অটোমেশন কী?
উত্তর: স্মার্ট হোম এমন একটি বাসস্থান যেখানে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে যেকোনো স্থান থেকে কোনো বাড়ির সিকিউরিটি কন্ট্রোল সিস্টেম, হিটিং সিস্টেম, কুলিং সিস্টেম, লাইটিং সিস্টেম, বিনোদন সিস্টেমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সিস্টেমকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্মার্ট হোমকে হোম অটোমেশন সিস্টেমও বলা হয়।
প্রশ্ন-৪। ফিশিং (Phishing) কী?
উত্তর: ফিশিং হলো একটি সাইবার ক্রাইম বা প্রতারণার পদ্ধতি, যেখানে অপরাধীরা প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল তথ্য (যেমন: পাসওয়ার্ড, ক্রেডিটকার্ড নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ) হাতিয়ে নেয়। এটি সাধারণত ভুয়া ইমেইল, মেসেজ, বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা হয়, যা দেখতে অবিকল কোনো বিশ্বাসযোগ্য উৎসের মতো মনে হয়।
প্রশ্ন-৫। ভিশিং (Vishing) কী?
উত্তর: মোবাইল, টেলিফোন বা ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন ফোন বা অডিও ব্যবহার করে ফিশিং করাকে ভিশিং বা 'ভয়েস ফিশিং' বলা হয়। যেমন: ফোনে লটারি বিজয়ের কথা বলে এবং টাকা পাঠানোর নাম করে ব্যক্তিগত বা ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া।
প্রশ্ন-৬। স্পুফিং (Spoofing) কী?
উত্তর: স্পুফিং শব্দের অর্থ হলো প্রতারণা করা বা ধোঁকা দেওয়া। নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির ক্ষেত্রে স্পুফিং হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে কোনো ব্যক্তি বা কোনো একটি প্রোগ্রাম মিথ্যা বা ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে বিভ্রান্ত করে এবং এর সিকিউরিটি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে অনৈতিকভাবে সুবিধা আদায় করে।
প্রশ্ন-৭। স্প্যামিং (Spamming) কী?
উত্তর: ই-মেইল অ্যাকাউন্টে প্রায়ই কিছু কিছু অচেনা ও অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল পাওয়া যায় যা আমাদের বিরক্তি ঘটায়। এই ধরনের ই-মেইলকে সাধারণত স্প্যাম মেইল বলে। যখন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট কোনো একটি ইমেইল অ্যাড্রেসে বা সার্ভারে একসাথে শত শত এমনকি লক্ষ লক্ষ মেইল প্রেরণের মাধ্যমে সার্ভারকে ব্যস্ত করে তোলে, সার্ভারের পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে বা মেমোরি দখল করে, তখন এই পদ্ধতিকে স্প্যামিং বলে।
প্রশ্ন-৮। ই-কমার্স (E-commerce) কী?
উত্তর: ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই-কমার্স একটি বাণিজ্য ক্ষেত্র যেখানে ইন্টারনেট বা অন্য কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় বা লেনদেন হয়ে থাকে। কিছু ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ হলো: alibaba.com, amazon.com, daraz.com.bd, rokomari.com ইত্যাদি। আধুনিক ই-কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনা করে।
প্রশ্ন-৯। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual Reality) কী?
উত্তর: হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো একটি পরিবেশ বা ঘটনার বাস্তবভিত্তিক বা ত্রিমাত্রিক (3D) চিত্রভিত্তিক রূপায়ণই হলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। কম্পিউটার প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম পরিবেশকে এমনভাবে তৈরি ও উপস্থাপন করা হয়, যা ব্যবহারকারীর কাছে সম্পূর্ণ সত্য ও বাস্তব বলে মনে হয়।
প্রশ্ন-১০। ভিডিও কনফারেন্সিং কী?
উত্তর: তথ্য প্রযুক্তির যুগে সময় এবং খরচ বাঁচিয়ে দূরবর্তী স্থানে অবস্থানরত একাধিক ব্যক্তির মধ্যে সরাসরি অডিও ও ভিডিও এর মাধ্যমে সভা, যোগাযোগ অথবা অনুষ্ঠান পরিচালনা করার আধুনিকতম পদ্ধতিই হচ্ছে ভিডিও কনফারেন্সিং। এই ব্যবস্থায় ক্যামেরা, মনিটর, মাইক্রোফোন ও স্পিকার ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে মানুষ স্কাইপ, মেসেঞ্জার, Google Meet, Zoom ইত্যাদি ব্যবহার করে সহজেই ভিডিও কনফারেন্সিং করছেন।
প্রশ্ন-১১। এক্সপার্ট সিস্টেম বলতে কী বোঝ?
উত্তর: এক্সপার্ট সিস্টেম হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত এমন একটি বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ সফটওয়্যার ব্যবস্থা, যা মানুষের চিন্তা-ভাবনা করার দক্ষতা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাকে একত্রে ধারণ করে। এটি মানব মস্তিষ্কের মতো পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সর্বোচ্চ সাফল্য লাভের উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।
প্রশ্ন-১২। "টেলিমেডিসিন এক ধরনের সেবা" —বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: টেলিমেডিসিন এক ধরনের চিকিৎসা সেবা যা টেলিফোন, মোবাইল বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূর থেকে রোগীরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নিকট হতে অতি দ্রুত গ্রহণ করতে পারে। বর্তমানে ঘরে বসেই টেলিকনফারেন্স বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এক দেশের চিকিৎসক অন্য দেশের চিকিৎসকের সাথে সহজে অনলাইন যোগাযোগ স্থাপন করে জটিল রোগের চিকিৎসা ও পরামর্শ দিতে পারেন। যেহেতু এটি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দূরদূরান্তে চিকিৎসাবিষয়ক সরাসরি পরামর্শ ও সেবা প্রদান করে, তাই এটি অবশ্যই একটি অনন্য সেবা।
প্রশ্ন-১৩। নিম্ন তাপমাত্রার চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নিম্ন তাপমাত্রার চিকিৎসা পদ্ধতিটি হলো ক্রায়োসার্জারি। এটি এমন এক প্রকার চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে অত্যাধিক শীতল তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ত্বকের অস্বাভাবিক এবং রোগাক্রান্ত টিস্যু ধ্বংস করা হয়। এই পদ্ধতিতে সাধারণত তরল নাইট্রোজেন, আর্গন বা হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়, যার তাপমাত্রা প্রায় -1960 C পর্যন্ত হতে পারে। এই অত্যন্ত ঠান্ডা তরলকে একটি বিশেষ যন্ত্রের (ক্রায়োপ্রোব) মাধ্যমে ক্ষতিকর টিস্যুর উপর প্রয়োগ করা হলে কোষগুলো জমে বরফ স্ফটিকে পরিণত হয় এবং রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়।
প্রশ্ন-১৪। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যাখ্যা কর। উত্তর: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) হলো কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের মস্তিষ্কের মতো কাজ করার ক্ষমতা সম্পন্ন যন্ত্র বা সফটওয়্যার তৈরি করা হয়। এই যন্ত্রগুলো নিজে থেকে শিখতে, বুঝতে, সিদ্ধান্ত নিতে এবং সমস্যার সমাধান করতে পারে।
এটি মূলত বিপুল পরিমাণ তথ্য (Data) বিশ্লেষণ করে নিজে থেকে শেখে। এটি দুটি প্রধান পদ্ধতির মাধ্যমে কাজ করে:
• মেশিন লার্নিং (Machine Learning): এটি কম্পিউটারকে তথ্য থেকে নিজে থেকে শিখতে সাহায্য করে। যেমন- একটি কম্পিউটারকে হাজার হাজার ছবি দেখালে সে নিজে থেকে বিড়াল বা কুকুর চিনতে পারে।
• ডিপ লার্নিং (Deep Learning): এটি মেশিন লার্নিংয়ের একটি উন্নত রূপ, যা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরনের মতো কৃত্রিম 'নিওরাল নেটওয়ার্ক' তৈরি করে কাজ করে।
প্রশ্ন-১৫। আণবিক পর্যায়ের গবেষণার প্রযুক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আণবিক পর্যায়ের গবেষণার প্রযুক্তিটি হচ্ছে ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology)। ন্যানোমিটার স্কেলে (1-100nm) পদার্থের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, ধ্বংস বা সৃষ্টি সম্পর্কিত প্রযুক্তিকেই ন্যানোটেকনোলজি বলে। পারমাণবিক বা আণবিক স্কেলে অতি ক্ষুদ্র ডিভাইস তৈরি করার জন্য ধাতব বা অধাতব বস্তুকে সুনিপুণভাবে কাজে লাগানোর প্রযুক্তিই এটি। ন্যানোপ্রযুক্তির ফলে ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীসহ সব যন্ত্রের আকার ছোট হয়েছে, উৎপাদন খরচ কমেছে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হয়েছে। এটি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, ইলেকট্রনিক্স ও শক্তি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
প্রশ্ন-১৬। তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক —বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের ফলে মানুষের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ হচ্ছে। তথ্য সৃষ্টি, প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ করার প্রযুক্তি হলো তথ্য প্রযুক্তি (IT); আর সেই তথ্যকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নির্ভরযোগ্যভাবে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া হলো যোগাযোগ প্রযুক্তি। এই দুটি প্রযুক্তি এখন এতটাই একীভূত হয়েছে যে একটি ছাড়া অন্যটি অচল। তথ্যকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠাতে না পারলে তার গুরুত্ব থাকে না, আবার যোগাযোগ করার জন্য কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয়। তাই বলা যায়, তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক এবং এদেরকে একত্রে ICT বলা হয়।
প্রশ্ন-১৭। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিকতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: নৈতিকতা হচ্ছে মানুষের কাজ কর্ম ও আচার-ব্যবহারের এমন একটি মূলনীতি যার উপর ভিত্তি করে মানুষ একটি কাজের ভালো বা মন্দ দিক বিচার বিশ্লেষণ করতে পারে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। যেমন— হ্যাকিং, স্প্যামিং, প্লেজিয়ারিজম ও সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নৈতিকতা বিরোধী। তাই আইসিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবার সচেতন ও সততা বজায় রাখা উচিত, যাতে নিজের দ্বারা অন্য কোনো ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধন না হয়।
প্রশ্ন-১৮। "যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে" —ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার অন্যতম আধুনিক যন্ত্র হচ্ছে রোবট। রোবট হলো কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা ইলেকট্রনিক সার্কিট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এক ধরনের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যান্ত্রিক ব্যবস্থা। এটি মানুষের তৈরি করা সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা অ্যালগরিদম অনুযায়ী মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে অনেক জটিল, কঠিন ও নিখুঁত কাজ সম্পন্ন করতে পারে। যেহেতু এটি মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম উপায়ে ধারণ করে নিজে থেকে কর্ম সম্পাদন করতে পারে, তাই বলা যায়— যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে।
প্রশ্ন-১৯। "হ্যাকিং নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ড" —ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: হ্যাকিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত বা অবৈধভাবে অন্যের কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক বা সিস্টেমে প্রবেশ করে। এর মাধ্যমে সিস্টেমের ক্ষতিসাধন, ডেটা চুরি, গোপনীয় তথ্য ফাঁস বা ডেটা বিকৃতিসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধ করা হয়। যেহেতু অনুমতি ছাড়া অন্যের ব্যক্তিগত সম্পদে প্রবেশ ও ক্ষতি করা আইনত অপরাধ এবং সামাজিক মূল্যের পরিপন্থী, তাই হ্যাকিং একটি নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ড।
প্রশ্ন-২০। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম —ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ (Global Village) হচ্ছে এমন একটি সামাজিক বা সাংস্কৃতিক পরিবেশ, যেখানে পৃথিবীর সকল মানুষ একটি একক সমাজে বসবাস করে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও তথ্য প্রযুক্তির (ইন্টারনেট) ব্যবহারের মাধ্যমে একে অপরের সাথে মুহূর্তের মধ্যে যোগাযোগ ও সেবা আদান-প্রদান করতে পারে। হার্বার্ট মার্শাল ম্যাকলুহান হলেন বিশ্বগ্রামের জনক। তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে দূরত্ব এখন ঘুচে গেছে; পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের মানুষের সাথে যুক্ত। তথ্য প্রযুক্তি ছাড়া এই বিশ্বজনীন যোগাযোগ কল্পনা করা অসম্ভব বলেই বলা হয়— তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বই বিশ্বগ্রাম।
প্রশ্ন-২১। "বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ ড্রাইভিং সম্ভব" —ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবে কোনো দুর্ঘটনা বা ঝুঁকির মুখোমুখি না হয়ে একদম নিরাপদ পরিবেশে নিখুঁত ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা সম্ভব। ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহারকারী একটি কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম পরিবেশে নিজেকে আবিষ্কার করার জন্য ডাটা গ্লাভস, হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে (হেলমেট), বিশেষ চশমা ইত্যাদি পরিধান করেন। এর ত্রিমাত্রিক স্ক্রিনে তৈরি হওয়া কৃত্রিম রাস্তা ও ট্রাফিক জ্যাম দেখে চালক অবিকল বাস্তব ড্রাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা লাভ করেন। এর ফলে কোনো জ্বালানি খরচ ও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছাড়াই ঘরে বসে শতভাগ নিরাপদ ড্রাইভিং শেখা সম্ভব।
প্রশ্ন-২২। রোবটিক্স প্রযুক্তি মানুষের কাজকে কীভাবে সহজ করেছে?
উত্তর: রোবটিক্স প্রযুক্তি হলো মেকানিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানকে একত্রিত করে রোবট তৈরি করার বিজ্ঞান। এটি মানুষের কাজকে সহজ, দ্রুত এবং আরও দক্ষভাবে সম্পাদন করতে সাহায্য করে। রোবটরা ক্লান্তিহীনভাবে এবং নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারে। খনি বা পারমাণবিক কেন্দ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক কাজে, শিল্প-কারখানার ভারী জিনিসপত্র ওঠানামায়, চিকিৎসার জটিল অস্ত্রোপচারে এবং হোটেল-রেস্টুরেন্টে গ্রাহক সেবার মতো কাজে রোবটের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন শ্রম ও ঝুঁকি কমিয়ে কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।
প্রশ্ন-২৩। "আচরণিক ডেটা" ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানুষের আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার প্রযুক্তিই হলো আচরণিক ডেটা বা আচরণগত বায়োমেট্রিক্স (Behavioral Biometrics) পদ্ধতি। একজন মানুষের হাঁটার শৈলী (Keystroke), কথা বলার ধরন বা কণ্ঠস্বর (Voice Recognition), কিংবা কীবোর্ডে টাইপ করার গতি (Typing Speed) এবং হাতের স্বাক্ষর (Signature Verification) অন্য মানুষের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়। এই অনন্য আচরণগত ডেটাগুলো বিশ্লেষণ করে ডিজিটাল সিস্টেমে নিখুঁত নিরাপত্তা ও ব্যক্তি শনাক্তকরণ নিশ্চিত করা হয়।
প্রশ্ন-২৪। সিমুলেশনের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরি করে প্রশিক্ষণ ন্সম্ভব ব্যাখ্যা দাও
উত্তর: ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং উন্নত মিলিটারি সিমুলেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা ঝুঁকি ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রের নিখুঁত আবহ তৈরি করে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব। এটি যেভাবে কাজ করে:
• ত্রিমাত্রিক কৃত্রিম পরিবেশ: কম্পিউটারের সাহায্যে যুদ্ধক্ষেত্রের একটি জীবন্ত ত্রিমাত্রিক (3D) পরিবেশ তৈরি করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা মাথায় হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে (HMD) এবং হাতে ডেটা গ্লাভস পরে এই কৃত্রিম পরিবেশে যুক্ত হন। ফলে চারপাশের গোলাগুলি বা বোমার আওয়াজ এবং শত্রুর আক্রমণ একদম বাস্তবের মতো অনুভূত হয়।
• ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ: বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে লাইভ ফায়ারিং বা বোমা বর্ষণের প্রশিক্ষণে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে। কিন্তু সিমুলেশনের মাধ্যমে কোনো প্রকার শারীরিক আঘাত বা দুর্ঘটনা ছাড়াই সেনারা নিখুঁত প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।
• প্রতিকূল পরিবেশের অভিজ্ঞতা: এই প্রযুক্তির সাহায্যে মরুভূমি, ঘন জঙ্গল বা বরফাচ্ছন্ন পাহাড়ি অঞ্চলের মতো দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং ঝড়-বৃষ্টি বা রাতের অন্ধকারের মতো বৈরী আবহাওয়া কৃত্রিমভাবে তৈরি করে সেনাদের যুদ্ধকৌশল শেখানো যায়।
• ব্যয় সংকোচন: আসল যুদ্ধবিমান বা ট্যাংক ব্যবহার না করে 'ফ্লাইট সিমুলেটর' ব্যবহারের ফলে কোটি কোটি টাকার সামরিক জ্বালানি ও গোলাবারুদ সাশ্রয় হয়।
সুতরাং বলা যায়, সিমুলেশন প্রযুক্তি একদিকে যেমন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জীবন সুরক্ষিত রেখে প্রকৃত যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি প্রদান করে, অন্যদিকে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ সাশ্রয় করে।
প্রশ্ন-২৫। “প্রযুক্তির সাহায্যে একাধিক জীবের জিনোমকে জোড়া লাগিয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি করে যায়” ব্যাখ্যা দাও।
উত্তর: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির সাহায্যে কোনো একটি নির্দিষ্ট জীবের কাঙ্ক্ষিত জিনোম (DNA খণ্ড) পৃথক করে অন্য একটি ভিন্ন জীবের জিনোমে জোড়া লাগিয়ে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কোষ বা জীব সৃষ্টি করা যায়। একে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তিও বলা হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই বর্তমানে মানবদেহের ইনসুলিন তৈরির জিন ব্যাকটেরিয়ার শরীরে জোড়া লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ইনসুলিন উৎপাদন করা হচ্ছে, যা ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তাই বলা যায়, প্রযুক্তির সাহায্যে একাধিক জীবের জিনোম জোড়া লাগিয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি করা সম্ভব।