সহকারী শিক্ষক
১৮ জুন, ২০২৬ ১০:৫১ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৯
বাংলাদেশের ব্যাংকিং কাঠামো মূলত একটি দ্বি-স্তর বিশিষ্ট ব্যবস্থা, যার শীর্ষে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং এর অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ। নিচে বাংলাদেশের ব্যাংকিং কাঠামোর প্রধান অংশগুলো তুলে ধরা হলো:
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেশের সামগ্রিক ব্যাংক ব্যবস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান করে। এর মূল কাজগুলো হলো:
দেশের মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ ও বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ।
কাগুজে নোট মুদ্রণ ও বাজারে প্রচলন করা।
অন্যান্য ব্যাংকগুলোর জন্য নীতিমালা তৈরি ও তদারকি করা।
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যাংকগুলোকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক: সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ, যা দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বড় ভূমিকা রাখে (যেমন—সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ইত্যাদি)।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক: ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ। এগুলো মূলত দুই ধরনের হয়:
প্রচলিত ব্যাংকিং: যা সুদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
ইসলামি ব্যাংকিং: যা শরিয়াহ বা সুদবিহীন নীতিতে পরিচালিত হয়।
বিশেষায়িত ব্যাংক: নির্দিষ্ট কোনো খাতের উন্নয়নে এই ব্যাংকগুলো কাজ করে। যেমন:
কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।
শিল্পায়ন: বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি।
গৃহনির্মাণ: বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন।
কর্মসংস্থান: কর্মসংস্থান ব্যাংক।
বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক: বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ।
ডিজিটাল ব্যাংক: এটি ব্যাংকিং খাতের নতুন সংযোজন, যা পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা প্রদান করে।
বাংলাদেশে কিছু অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংকও রয়েছে, যারা নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রামীণ ব্যাংক একটি বিশেষায়িত অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংক হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ সেবায় বিশ্বব্যাপী পরিচিত।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে:
খেলাপি ঋণ: ব্যাংক খাতে অনাদায়যোগ্য বা খেলাপি ঋণের উচ্চ হার একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা: ব্যাংকগুলোতে সুশাসনের অভাব এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।
তারল্য সংকট: আমানতকারীদের আস্থা রক্ষা এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা বর্তমানে ব্যাংকগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাংক-নির্ভর হওয়ায় এই কাঠামোর স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।