সহকারী শিক্ষক
১৯ জুন, ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৯
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক এবং অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। ১৯৭২ সালের ‘বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার’-এর মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিচে এর গঠন ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আলোচনা করা হলো:
বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও এর মালিকানা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের হাতে ন্যস্ত। এর সাংগঠনিক কাঠামো নিম্নরূপ:
পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors): ব্যাংকটি পরিচালনার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো পরিচালনা পর্ষদ। এই পর্ষদ সরকারের নীতিমালার আলোকে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করে। পর্ষদ সাধারণত নিচের সদস্য নিয়ে গঠিত হয়:
গভর্নর: তিনি পর্ষদের সভাপতি এবং ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
ডেপুটি গভর্নর: সরকারের মনোনয়ন অনুযায়ী একজন ডেপুটি গভর্নর পর্ষদের সদস্য থাকেন।
সরকারি পরিচালক: সরকার কর্তৃক মনোনীত তিনজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা।
অন্যান্য পরিচালক: ব্যাংকিং, বাণিজ্য, শিল্প বা কৃষিখাতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চারজন ব্যক্তি, যারা সরকার কর্তৃক মনোনীত হন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম গভর্নর ও তার নেতৃত্বের অধীনে পরিচালিত হয়। ব্যবস্থাপনা স্তরের বিন্যাসটি এমন:
গভর্নর: তিনি ব্যাংকের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও প্রধান নির্বাহী। তিনি ব্যাংকের প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের দিকনির্দেশনা দেন।
ডেপুটি গভর্নর: গভর্নরের অধীনে সাধারণত চারজন ডেপুটি গভর্নর থাকেন, যারা বিভিন্ন বিভাগ ও কার্যক্রমে তদারকি করেন।
নির্বাহী পরিচালক (Executive Directors): প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ এবং ব্যাংকের ১০টি শাখা কার্যালয় নির্বাহী পরিচালকদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বিভাগীয় প্রধান: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৬০টিরও বেশি বিভাগ রয়েছে (যেমন—মুদ্রানীতি বিভাগ, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ, বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ ইত্যাদি), যা সাধারণ মহাব্যবস্থাপক (GM) পর্যায়ের কর্মকর্তারা পরিচালনা করেন।
শাখা কার্যালয়: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ১০টি শাখা রয়েছে (মতিঝিল, সদরঘাট, চট্টগ্রাম, খুলনা, বগুড়া, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ)। প্রতিটি শাখার প্রধান হিসেবে একজন নির্বাহী পরিচালক নিয়োজিত থাকেন।
একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব দায়িত্ব পালন করে:
মুদ্রানীতি প্রণয়ন: দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা ও বাস্তবায়ন।
মুদ্রা ইস্যু: সরকার অনুমোদিত নোট ছাড়া দেশের সকল কাগুজে নোট ছাপানো ও বাজারে প্রচলন করা।
তত্ত্বাবধায়ক ও নিয়ন্ত্রক: দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান এবং তাদের কার্যক্রমে তদারকি করা।
সরকারের ব্যাংক: সরকারের কোষাগার পরিচালনা করা এবং সরকারের পক্ষে ঋণ গ্রহণ ও প্রদান।
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা।
ঋণদাতা: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংকটকালীন সময়ে ‘শেষ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে ঋণ প্রদান করা।
সারসংক্ষেপ: বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মুদ্রাবাজার ও ব্যাংক ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেয়। এর শীর্ষ নেতৃত্বে থাকেন গভর্নর এবং পরিচালনা পর্ষদ, যা পুরো আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে।