Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

৩০ জুন, ২০২৬ ০৯:১১ অপরাহ্ণ

মিয়োসিস কোষ বিভাজন (Meiosis)

মিয়োসিস কোষ বিভাজন (Meiosis) – বিস্তারিত ক্লাস লেকচার

SSC ২০২৭ | নবম–দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

বিষয়: মিয়োসিস কোষ বিভাজন (Meiosis)
প্রস্তুতকারক: মোঃ বিপ্লব হোসাইন
সহকারী শিক্ষক (জীববিজ্ঞান)
মোহিনী মোহন বিদ্যাপীঠ, মিলপাড়া, কুষ্টিয়া


🎯 আজকের পাঠের শিখনফল

এই ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীরা—

  • মিয়োসিস কোষ বিভাজন কী তা বলতে পারবে।

  • মিয়োসিস কোথায় সংঘটিত হয় তা ব্যাখ্যা করতে পারবে।

  • মিয়োসিসের ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করতে পারবে।

  • ক্রসিং ওভার কী এবং এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারবে।

  • মিয়োসিস-I ও মিয়োসিস-II এর পার্থক্য লিখতে পারবে।

  • মাইটোসিস ও মিয়োসিসের তুলনা করতে পারবে।

  • পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।


📖 ভূমিকা

আমাদের শরীরের সব কোষ একইভাবে বিভাজিত হয় না।

দেহকোষে ঘটে মাইটোসিস, কিন্তু জননকোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) তৈরির সময় ঘটে মিয়োসিস।

মিয়োসিসের ফলে একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি নতুন কোষ সৃষ্টি হয় এবং প্রতিটি কোষে মাতৃকোষের অর্ধেক সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে।

এই কারণে একে হ্রাসমূলক বিভাজন (Reduction Division) বলা হয়।


✍️ সংজ্ঞা

মিয়োসিস (Meiosis):

যে কোষ বিভাজনের মাধ্যমে একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ থেকে ধারাবাহিক দুইবার বিভাজনের ফলে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় তাকে মিয়োসিস বলে।


কোথায় ঘটে?

মানুষের ক্ষেত্রে—

  • অণ্ডকোষে (Testis)

  • ডিম্বাশয়ে (Ovary)

উদ্ভিদে—

  • পরাগধানীতে

  • ডিম্বকে


বৈশিষ্ট্য

  • এটি জননকোষে সংঘটিত হয়।

  • একবার DNA প্রতিলিপি হয়।

  • দুইবার নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়।

  • চারটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।

  • ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে।

  • ক্রসিং ওভার ঘটে।

  • জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।


মিয়োসিসের ধাপ

genui{"biology_learning_block":{"type_id":"MEIOSIS","locale_override":"bn-BD"}}

মিয়োসিস দুই ভাগে বিভক্ত।

১. মিয়োসিস-I (Reduction Division)

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

কারণ—

এখানেই ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে।


মিয়োসিস-I এর ধাপসমূহ

১. প্রোফেজ-I

এটি সবচেয়ে দীর্ঘ ধাপ।

আবার পাঁচটি উপধাপে বিভক্ত।

(ক) লেপ্টোটিন

  • ক্রোমোজোম সরু সুতা সদৃশ দেখা যায়।

  • প্রতিটি ক্রোমোজোম দ্বিগুণিত।


(খ) জাইগোটিন

সমজাতীয় ক্রোমোজোম জোড়া বাঁধে।

একে বলে

Synapsis


(গ) প্যাকাইটিন

এই ধাপে ঘটে

⭐ Crossing Over

অর্থাৎ—

সমজাতীয় ক্রোমোজোমের অসহোদর ক্রোমাটিডের মধ্যে DNA অংশের আদান-প্রদান হয়।

এটাই জিনগত বৈচিত্র্যের মূল কারণ।


(ঘ) ডিপ্লোটিন

  • সমজাতীয় ক্রোমোজোম আলাদা হতে শুরু করে।

  • কিয়াজমা (Chiasma) স্পষ্ট দেখা যায়।


(ঙ) ডায়াকাইনেসিস

  • নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বিলীন হয়।

  • স্পিন্ডল তন্তু তৈরি হয়।


২. মেটাফেজ-I

  • বাইভ্যালেন্টগুলো বিষুবরেখায় অবস্থান করে।

  • স্পিন্ডল তন্তু সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে যুক্ত হয়।


৩. অ্যানাফেজ-I

  • সমজাতীয় ক্রোমোজোম পৃথক হয়।

  • সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় না।

  • ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে।


৪. টেলোফেজ-I

  • নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।

  • কোষ বিভাজিত হয়।

  • দুটি হ্যাপ্লয়েড কোষ সৃষ্টি হয়।


ইন্টারকাইনেসিস

দুই বিভাজনের মধ্যবর্তী সময়।

এ সময়ে

DNA প্রতিলিপি হয় না।


মিয়োসিস-II (Equational Division)

এটি মাইটোসিসের মতো।

এখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে।


ধাপসমূহ

প্রোফেজ-II

  • নিউক্লিয়ার ঝিল্লি বিলীন হয়।

  • স্পিন্ডল তন্তু সৃষ্টি হয়।


মেটাফেজ-II

  • ক্রোমোজোম বিষুবরেখায় অবস্থান করে।


অ্যানাফেজ-II

  • সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়।

  • দুই ক্রোমাটিড পৃথক হয়।


টেলোফেজ-II

  • নিউক্লিয়ার মেমব্রেন সৃষ্টি হয়।

  • সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয়।

  • মোট চারটি হ্যাপ্লয়েড কোষ তৈরি হয়।


ফলাফল

একটি মাতৃকোষ

↓

২টি কোষ

↓

৪টি হ্যাপ্লয়েড কোষ


Crossing Over কী?

সমজাতীয় ক্রোমোজোমের অসহোদর ক্রোমাটিডের মধ্যে DNA অংশের বিনিময়কে Crossing Over বলে।


Crossing Over-এর গুরুত্ব

✅ নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে।

✅ জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে।

✅ বিবর্তনে সাহায্য করে।

✅ নতুন প্রজাতি গঠনে ভূমিকা রাখে।


মিয়োসিসের গুরুত্ব

১. ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির রাখে।

মানুষে

46 → 23

নিষেকের পরে

23 + 23 = 46


২. জননকোষ তৈরি করে।

  • শুক্রাণু

  • ডিম্বাণু


৩. জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।


৪. অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।


৫. বিবর্তনে সহায়তা করে।


মিয়োসিস-I ও মিয়োসিস-II এর পার্থক্য

মিয়োসিস-Iমিয়োসিস-II
Reduction DivisionEquational Division
ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসেসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে
Crossing Over ঘটেCrossing Over হয় না
Homologous chromosome পৃথক হয়Sister chromatid পৃথক হয়
শেষে ২টি কোষশেষে ৪টি কোষ

মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য

মাইটোসিসমিয়োসিস
দেহকোষে ঘটেজননকোষে ঘটে
একবার বিভাজনদুইবার বিভাজন
২টি কোষ তৈরি৪টি কোষ তৈরি
ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিতঅর্ধেকে নেমে আসে
Crossing Over নেইCrossing Over আছে
জিনগত বৈচিত্র্য নেইজিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়

মনে রাখার কৌশল (Shortcut)

মিয়োসিস-I

P M A T

➡️ Prophase

➡️ Metaphase

➡️ Anaphase

➡️ Telophase

এরপর

Interkinesis

তারপর

আবার

P M A T


পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১। মিয়োসিস কী?

২। হ্রাসমূলক বিভাজন কাকে বলে?

৩। Crossing Over কী?

৪। Chiasma কী?

৫। Synapsis কী?


সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১। মিয়োসিসের বৈশিষ্ট্য লিখ।

২। মিয়োসিসের গুরুত্ব লিখ।

৩। Crossing Over-এর গুরুত্ব লিখ।


রচনামূলক প্রশ্ন

১। মিয়োসিস কোষ বিভাজনের ধাপসমূহ বর্ণনা কর।

২। মাইটোসিস ও মিয়োসিসের তুলনা কর।

৩। মিয়োসিস-I ও মিয়োসিস-II এর পার্থক্য লিখ।


বোর্ড পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • মিয়োসিস = Reduction Division

  • একবার DNA Replication

  • দুইবার Nuclear Division

  • ৪টি Haploid কোষ

  • Crossing Over = Pachytene

  • Chiasma = Diplotene

  • Synapsis = Zygotene

  • Interkinesis-এ DNA Replication হয় না

  • Meiosis-I = Homologous chromosome পৃথক হয়

  • Meiosis-II = Sister chromatid পৃথক হয়


উপসংহার

মিয়োসিস হলো এমন একটি বিশেষ কোষ বিভাজন, যার মাধ্যমে জননকোষ তৈরি হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। ক্রসিং ওভার ও স্বাধীন বণ্টনের মাধ্যমে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়, যা জীবের অভিযোজন, বিবর্তন এবং প্রজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মিয়োসিসকে জীববিজ্ঞানের অন্যতম মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মন্তব্য করুন