Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ণ

কামিনী রায়ের 'সুখ'

কামিনী রায়ের 'সুখ' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম একটি অনুপ্রেরণামূলক ও কালজয়ী কবিতা। মানুষের জীবনের প্রকৃত সুখ কোথায় এবং কীভাবে তা অর্জন করা যায়, কবি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় তা এই কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

এখানে পুরো কবিতাটি আপনার জন্য তুলে ধরা হলো:

সুখ

কামিনী রায়

নাই কি রে সুখ? নাই কি রে সুখ?— এ ধরা কি শুধু বিষাদ-ময়? যাতনে জ্বলিয়া, কাঁদিয়া মরিতে, কেবলি কি নর জনম লয়?

বল ছিন্ন বীন, বল উচ্চৈঃস্বরে, না, না, না, মানবের তরে, এমন মরণ-কূপ নাহি সৃজিলা বিধি, কাঁদিয়া ভাসিতে এ ভব-ঘরে।

কার্যক্ষেত্র ঐ প্রশস্ত পড়িয়া, সমর-অঙ্গন সংসার এই, যাও বীরবেশে কর গিয়া রণ, যে জিনিবে সুখ লভিবে সেই।

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি, এ জীবন মন সকলি দাও, তার মতো সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

পরের কারণে মরণেও সুখ, সুখ সুখ করি কেঁদ না আর, যতই কাঁদিবে, যতই ভাবিবে, ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার।

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে, আসে নাই কেহ অবনী-পরে, সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

কবিতার মূলভাব:

কবি এই কবিতায় বলতে চেয়েছেন যে, পৃথিবী কেবল দুঃখ-কষ্টে ভরা নয় এবং মানুষ শুধু কেঁদে মরার জন্য জন্মায়নি। সংসার একটি যুদ্ধক্ষেত্রের মতো, যেখানে বীরের মতো লড়াই করে নিজের অধিকার ও সুখ অর্জন করতে হয়।

সবচেয়ে বড় কথা, কেবল নিজের স্বার্থ বা নিজের সুখ নিয়ে ব্যস্ত থাকার মধ্যে কোনো সার্থকতা নেই। প্রকৃত সুখ লুকিয়ে আছে পরোপকারে— অর্থাৎ অন্যের কল্যাণে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করার মাধ্যমে। আমরা কেউ এই পৃথিবীতে একা বাঁচতে আসিনি; সমাজের প্রতিটি মানুষ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। তাই পরার্থপরতা বা অন্যের জন্য বাঁচার মাধ্যমেই জীবনের আসল আনন্দ ও সুখ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট