সহকারী শিক্ষক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ০৬:২৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ চারুপাঠ
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১৭ (কবিতা)
'ফাগুন মাস' বাংলাদেশের প্রখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ-এর লেখা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং আবেগপূর্ণ কবিতা। এটি মূলত আমাদের ভাষা আন্দোলন (১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, যা ছিল ৮ই ফাল্গুন) এবং ফাল্গুন বা ফাগুন মাসের সাথে জড়িয়ে থাকা বাঙালির আবেগ, গৌরব ও ত্যাগের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে রচিত।
নিচে কবিতাটি এবং এর মূলভাব সহজভাবে তুলে ধরা হলো:
ফাগুনটা খুব ভীষণ দস্যি মাস,
আকাশ ফেড়ে খিলখিলিয়ে হাসে।
ফাগুন মাসে বনে আগুন লাগে,
ফাগুন মাসে সবুজ পাতারা জাগে।
ফাগুন মাসে অন্য রকম হাওয়া,
নিজের মনে গান গেয়ে পথ চাওয়া।
ফাগুন মাসে কোকিল ডাকে কুহু,
বুকের ভেতর কেমন করে মুহু।
ফাগুন মাসে রক্ত ঝরে বনে,
ফাগুন মাসে দুঃখ জাগে মনে।
ফাগুন মাসে মা-হারা সব ছেলে,
ফাগুন মাসে অন্ধ খাঁ খাঁ জ্বেলে।
ফাগুন মাসে দেয় না কেউ তো ফাঁকি,
ফাগুন মাসে ডাকলে খোকা, 'মা' কি?
ফাগুন মাসে খোকারা সব মরে,
ফাগুন মাসে রক্ত ঝরে ঘরে।
ফাগুন মাসে আমরা সবাই কাঁদি,
ফাগুন মাসে অশ্রু-শপথ বাঁধি।
ফাগুন মাসে একটি ভীষণ মাস,
ফাগুন মাসে কাঁপায় দীর্ঘশ্বাস।
হুমায়ুন আজাদ এই কবিতায় ফাগুন বা ফাল্গুন মাসকে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে ফুটিয়ে তুলেছেন:
প্রকৃতির রূপ: কবিতার প্রথমার্ধে ফাগুন এলো প্রকৃতির এক আনন্দময় উৎসব হিসেবে। যেখানে গাছের নতুন পাতা গজায়, বনে শিমুল-পলাশের রঙে যেন আগুন লাগে, কোকিল গান গায় আর চারদিকে এক চঞ্চল হাওয়া বয়ে যায়।
ইতিহাস ও বেদনার রূপ: কবিতার দ্বিতীয়ার্ধে কবি ফাগুনের আসল ও গম্ভীর রূপটি উন্মোচন করেছেন। ১৯৫২ সালের ৮ই ফাল্গুন (২১শে ফেব্রুয়ারি) বাংলার বীর সন্তানেরা মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন। তাই ফাগুন মাস এলে বাঙালির মনে যেমন গর্ব জাগে, তেমনি ভাষা শহীদদের হারানোর বেদনায় চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।
এক নজরে: কবি বোঝাতে চেয়েছেন, ফাগুন শুধু ঋতুরাজের আনন্দের মাস নয়, এটি আমাদের দীর্ঘশ্বাসের মাস, রক্তদানের মাস এবং একই সাথে মায়ের ভাষা রক্ষার এক দৃপ্ত শপথের মাস।