Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৭ জুলাই, ২০২৬ ০৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

‘মরু-ভাস্কর’

‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধটি প্রখ্যাত বাঙালি কবি, প্রবন্ধকার ও রাজনীতিবিদ হাবিবুল্লাহ বাহার (১৯০৬-১৯৬৬) রচিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কালজয়ী জীবনীমূলক প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধে তিনি ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, মহৎ চরিত্র, মানবিক গুণাবলি এবং তাঁর আদর্শের এক অপূর্ব ও নিখুঁত চিত্র তুলে ধরেছেন।

এখানে ‘মরু-ভাস্কর’ শব্দটির অর্থ হলো মরুভূমির সূর্য। হযরত মুহাম্মদ (সা.) আরবের তপ্ত মরুভূমিতে জন্মগ্রহণ করে যেভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন, সেই সত্যকেই রূপক অর্থে এই নামকরণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

হাবিবুল্লাহ বাহারের এই বিখ্যাত প্রবন্ধটির মূলভাব এবং গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

১. অসাধারণ মানবিকতা ও উদারতা

প্রবন্ধে হাবিবুল্লাহ বাহার দেখিয়েছেন যে, ইসলামের নবী হওয়া সত্ত্বেও হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং আড়ম্বরহীন। তিনি নিজেকে কখনো সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা ভাবেননি। দাস-দাসী, ধনী-দরিদ্র সবার সাথে তিনি সমান আচরণ করতেন। মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অতুলনীয়।

২. ক্ষমা ও মহত্ত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত

শত্রুরা তাঁকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করেছে, পাথর মেরে রক্তাক্ত করেছে, কিন্তু তিনি কখনোই তাদের প্রতি প্রতিশোধ নেননি বা অভিশাপ দেননি। বরং মক্কা বিজয়ের পর তিনি তাঁর চিরশত্রুদেরও নিঃশর্ত ক্ষমা করে দিয়ে মহত্ত্বের এক চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

৩. নারী অধিকার ও মানবতা প্রতিষ্ঠা

তৎকালীন আরবে যেখানে কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, সেখানে তিনি নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। দাসপ্রথা বিলুপ্তির পক্ষে এবং সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী ছড়িয়ে দিতে তিনি আজীবন কাজ করেছেন।

৪. কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবস্থান

হযরত মুহাম্মদ (সা.) অলৌকিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন না, বরং তিনি যুক্তি, জ্ঞান এবং বাস্তবতার ওপর জোর দিতেন। তাঁর পুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুর দিনে সূর্যগ্রহণ লাগলে মানুষ যখন বলতে শুরু করে যে নবীর শোকের কারণে সূর্যগ্রহণ হয়েছে, তখন তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তা নাকচ করে দেন এবং বলেন—সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর সৃষ্টি, কারো জন্ম বা মৃত্যুতে এদের কোনো পরিবর্তন হয় না।

সংক্ষেপে মূল কথা: হাবিবুল্লাহ বাহার ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কোনো অতিপ্রাকৃতিক চরিত্র হিসেবে নয়, বরং একজন মহৎ মানব, আদর্শ নেতা এবং অনুকরণীয় মহামানব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর সরল জীবনযাপন, সত্যবাদিতা, মানুষের প্রতি অকৃত্রিম প্রেম এবং ন্যায়ের আদর্শই এই প্রবন্ধের মূল সুর।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট