সহকারী শিক্ষক
০৭ জুলাই, ২০২৬ ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ সপ্তবর্না বাংলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৪ (গদ্য)
‘শব্দ থেকে কবিতা’ বাংলাদেশের বিশিষ্ট ভাষাবিজ্ঞানী, কবি ও সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ (১৯৪৭-২০০৪) রচিত একটি অত্যন্ত চমৎকার ও অনুপ্রেরণামূলক প্রবন্ধ। এটি মূলত কিশোরদের কবিতা লেখার কলাকৌশল এবং কবিতার ভেতরের জগতকে সহজ ও আকর্ষণীয় ভাষায় বোঝানোর জন্য লেখা হয়েছে। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী' (কিংবা কিশোরদের উপযোগী প্রবন্ধ সংকলন) থেকে এটি নেওয়া।
এই প্রবন্ধে হুমায়ুন আজাদ দেখিয়েছেন কীভাবে ছোট ছোট, সাধারণ শব্দ দিয়ে একজন কবি একটি চমৎকার ও মায়াবী কবিতার জগত তৈরি করেন।
প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু ও প্রধান দিকগুলো নিচে সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
হুমায়ুন আজাদের মতে, কবিতা বানাতে হলে সবচেয়ে আগে দরকার শব্দ। যেমন—ইট-পাথর-সিমেন্ট দিয়ে বাড়ি বানানো হয়, তেমনি শব্দ জোড়া দিয়ে দিয়ে কবিতা বানানো হয়। একজন কবি শব্দকে খুব ভালোবাসেন, শব্দের রঙ ও গন্ধ চিনতে পারেন।
প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের কাছে শব্দ শুধু যোগাযোগের মাধ্যম হলেও, কবির কাছে শব্দের আলাদা প্রাণ আছে।
কিছু শব্দ শুনলে মনে হয় গান বাজছে (যেমন: নুপূর, রিনিঝিনি)।
কিছু শব্দে সুগন্ধ পাওয়া যায় (যেমন: বকুল, চম্পা, পারিজাত)।
আবার কিছু শব্দ শুনলে মনে ছবি ভেসে ওঠে (যেমন: নদী, আকাশ, পাখি)।
হুমায়ুন আজাদ বলেছেন, শুধু শব্দ সাজালেই কবিতা হয় না। শব্দের সাথে শব্দ মিলিয়ে মনের ভেতর একটা সুন্দর ছবি বা 'উপমা' তৈরি করতে হয়। যখন কোনো লেখার কথাগুলো আমাদের মনে একটা ছবি এঁকে দেয় এবং মনকে ছুঁয়ে যায়, সেটাই হয়ে ওঠে কবিতা।
যাঁদের মনে চমৎকার সব স্বপ্ন আছে, যাঁরা আকাশ, নদী, ফুল ও পাখিকে ভালোবাসেন, তাঁরাই কবি হতে পারেন। লেখক কিশোরদের উদ্বুদ্ধ করে বলেছেন, যার মনে কোনো স্বপ্ন নেই, যে চারপাশের সৌন্দর্য দেখতে পায় না, সে কখনো কবিতা লিখতে পারবে না। তাই কবি হতে হলে চারপাশকে ভালোবাসতে হবে এবং স্বপ্ন দেখতে হবে।
সংক্ষেপে মূল কথা: ‘শব্দ থেকে কবিতা’ প্রবন্ধে হুমায়ুন আজাদ কিশোরদের মনের ভেতর লুকানো সৃজনশীলতাকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, মনের ভেতর সুন্দর স্বপ্ন আর শব্দের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকলেই সাধারণ শব্দ ব্যবহার করে অসাধারণ সব কবিতা সৃষ্টি করা সম্ভব।