সহকারী শিক্ষক
১০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:২৭ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ সপ্তবর্না বাংলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৮ (গদ্য)
'সেই ছেলেটি' প্রখ্যাত নাট্যকার ও অভিনেতা মামুনুর রশীদের লেখা একটি অত্যন্ত মানবিক, সংবেদনশীল এবং শিক্ষণীয় কিশোর নাটিকা। গল্প বা নাটকটিতে মূলত একটি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন (শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার) শিশুর কষ্ট, তার বন্ধুদের অবহেলা এবং শিক্ষকের সহানুভূতির চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নিচে 'সেই ছেলেটি' নাটিকার মূলভাব ও সংক্ষিপ্ত কাহিনী তুলে ধরা হলো:
নাটিকার প্রধান চরিত্র আরজু নামের এক ছোট ছেলে। আরজু প্রতিদিন তার বন্ধুদের (সোমেন, সাবু) সাথে গল্প করতে করতে হাসিমুখে স্কুলে যেত। কিন্তু প্রায়ই দেখা যেত, কিছুটা পথ যাওয়ার পর আরজুর পা দুটো অবশ হয়ে আসত, সে আর হাঁটতে পারত না। সে রাস্তার পাশে বসে পড়ত।
বন্ধুরা প্রথমে তার জন্য অপেক্ষা করলেও, স্কুলের ঘণ্টা পড়ে যাওয়ার ভয়ে বা পড়ার তাগাদায় আরজুকে রাস্তায় একলা রেখেই চলে যেত। আরজু একা একা বসে থাকত আর ভাবত—পাখি উড়ে চলে যায়, মেঘ ভেসে যায়, অথচ সে কেন চলতে পারে না? তার মনে এক গভীর একাগ্রতা ও অসহায়ত্ব তৈরি হতো।
প্রকৃতপক্ষে আরজু কোনো ফাঁকিবাজ ছেলে ছিল না। তার পায়ে একটা সমস্যা ছিল (যা মূলত পোলিও বা কোনো স্নায়বিক সমস্যার ইঙ্গিত দেয়)। কিন্তু এই শারীরিক অসুস্থতার কথা তার বন্ধুরা কিংবা শিক্ষকেরা প্রথমে বুঝতে পারেননি। সবাই ভাবত সে হয়তো অলসতা করে বা আইসক্রিম খাওয়ার জন্য রাস্তায় বসে থাকে।
একদিন আরজুকে রাস্তায় একা বসে থাকতে দেখে তার স্কুলের শিক্ষক লতিফ স্যার এগিয়ে আসেন। তিনি আরজুর সাথে কথা বলেন এবং গভীর মমতা দিয়ে তার কষ্টের কথা শোনেন। লতিফ স্যার বুঝতে পারেন যে, আরজু ইচ্ছা করে স্কুল ফাঁকি দিচ্ছে না, বরং তার শরীর তাকে সাপোর্ট দিচ্ছে না।
লতিফ স্যার আরজুকে কোলে তুলে নেন এবং তার বন্ধুদেরও ডেকে বোঝান যে, বন্ধুদের বিপদে ফেলে চলে যাওয়া প্রকৃত বন্ধুত্বের পরিচয় নয়। তিনি আরজুর চিকিৎসার জন্য তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলার দায়িত্ব নেন এবং তাকে স্কুলে নিয়ে যান।
সহমর্মিতা ও মানবতাবোধ: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা অসুস্থ বন্ধুদের প্রতি আমাদের কেমন আচরণ করা উচিত, তা এই নাটিকায় খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। তাদেরকে অবহেলা না করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।
শিক্ষকের ভূমিকা: একজন আদর্শ শিক্ষক কেবল ক্লাসে পড়ান না, বরং শিক্ষার্থীর ভেতরের কষ্ট ও সমস্যা অনুধাবন করে তার পাশে দাঁড়ান—লতিফ স্যার তারই এক অনন্য প্রতীক।
সচেতনতা: শিশুদের শারীরিক কোনো সমস্যা থাকলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার বার্তা দেয় এই নাটিকা।
মামুনুর রশীদ তাঁর এই নাটিকার মাধ্যমে সমাজের সবাইকে শিশুদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।