Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৩০ পূর্বাহ্ণ

'বহু জাতিসত্তার বাংলাদেশ'

'বহু জাতিসত্তার বাংলাদেশ' প্রবন্ধটি কবি ও গবেষক এ. কে. শেরামের একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মূল্যবান রচনা। এটি মূলত বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজ, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর (নৃগোষ্ঠী) জীবনযাত্রার এক চমৎকার দলিল।

নিচে প্রবন্ধটির মূল বিষয়বস্তু ও শিক্ষণীয় দিকগুলো পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:

১. মূল ভাবধারা: বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য

বাংলাদেশ প্রধানত বাঙালি এবং বাংলা ভাষাভাষী মানুষের দেশ হলেও, প্রাচীনকাল থেকেই এখানে নানা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে বসবাস করে আসছে। এ. কে. শেরাম দেখিয়েছেন যে, এই সব জাতিসত্তার বৈচিত্র্য মিলেই তৈরি হয়েছে আমাদের বাংলাদেশের সামগ্রিক ও সমৃদ্ধ রূপ।

২. ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রধান জাতিসত্তাসমূহ

প্রবন্ধে লেখক বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত নৃগোষ্ঠীগুলোর একটি সুন্দর বিবরণ দিয়েছেন:

  • পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান): এখানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বম, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, লুসাইসহ প্রায় ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বাস করে। এদের মধ্যে চাকমা জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

  • সিলেট অঞ্চল: এই অঞ্চলে মূলত মণিপুরী এবং খাসিয়া (খাসি) সম্প্রদায়ের মানুষেরা বাস করেন। লেখক নিজে মণিপুরী সম্প্রদায়ের হওয়ায় এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক রূপটি খুব কাছ থেকে তুলে ধরেছেন।

  • ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল অঞ্চল: এই পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে প্রধানত গারোহাজংদের বসবাস।

  • উত্তরবঙ্গ (রাজশাহী, দিনাজপুর ও রংপুর): এই অঞ্চলে বাস করে সাঁওতাল, ওরাওঁ, মুন্ডামাহলেসহ বেশ কিছু প্রাচীন নৃগোষ্ঠী।

৩. সমাজব্যবস্থা ও উৎসবের বৈচিত্র্য

এই প্রবন্ধটির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি পাঠকদের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়:

  • মাতৃতান্ত্রিক সমাজ: সাধারণত আমাদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক হলেও, গারো এবং খাসিয়াদের সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। অর্থাৎ, পরিবারের প্রধান হন মা এবং সন্তানেরা মায়ের বংশনাম বা উপাধি লাভ করে।

  • প্রকৃতি-নির্ভর উৎসব: প্রায় প্রতিটি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার প্রধান উৎসবগুলো কৃষিকাজ ও প্রকৃতির সাথে যুক্ত। যেমন—

    • পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রধান উৎসব বৈসাবি (ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই এবং চাকমাদের বিঝু উৎসবের সমন্বিত নাম)।

    • গারোদের নবান্ন উৎসব ওয়ানগালা

    • সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই

    • মণিপুরীদের ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক রাসনৃত্য ও উৎসব।

৪. প্রবন্ধের মূল বার্তা ও শিক্ষা

  • বাগানের উপমা: লেখক পুরো বাংলাদেশকে একটি বিশাল বাগানের সাথে তুলনা করেছেন। একটি বাগানে কেবল এক জাতের ফুল থাকলে তার সৌন্দর্য যেমন সীমিত, কিন্তু নানা রঙের ও নানারকম বুনো ফুল ফুটলে বাগানটি যেমন অপরূপ হয়ে ওঠে; আমাদের বাংলাদেশও ঠিক তেমনি বহু জাতিসত্তার উপস্থিতিতে বর্ণিল ও সুন্দর।

  • পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য: সংখ্যায় কম হলেও প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার রয়েছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হলে মেজরিটি (বাঙালি) এবং মাইনোরিটি (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী)—সবার পারস্পরিক মেলবন্ধন ও শ্রদ্ধা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তরের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • বাংলাদেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী: চাকমা

  • মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কাদের: গারো ও খাসিয়া

  • 'বৈসাবি' কোন কোন উৎসবের সমষ্টি: বৈসু, সাংগ্রাই ও বিঝু

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট