সহকারী শিক্ষক
১০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ সপ্তবর্না বাংলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১০ (কবিতা)
'নতুন দেশ' বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, সহজ-সরল অথচ গভীর ভাবার্থপূর্ণ শিশুতোষ কবিতা। এটি তাঁর বিখ্যাত 'সহজ পাঠ' (প্রথম ভাগ) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। কবিতাটিতে একটি শিশুর মনে প্রকৃতির অজানাকে জানার এবং অচেনাকে চেনার যে তীব্র ব্যাকুলতা ও কৌতূহল, তা অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
নিচে কবিতাটির মূলভাব ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
কাকডাকা ভোরে নদীর ঘাটে গিয়ে শিশুটি দেখে, জলের ঢেউয়ের সাথে সাথে একটি নৌকা মাঝনদীতে ভেসে চলেছে। নৌকাটি ঠিক কোথায় গিয়ে থামবে, তা শিশুটি জানে না। তার মনে প্রশ্ন জাগে—নদীটি যেখানে গিয়ে শেষ হয়েছে, তার ওপারে ঠিক কেমন দেশ আছে?
সে কল্পনা করতে থাকে সেই দূর 'নতুন দেশে'র রূপ:
সেখানকার পাহার বা পর্বতগুলো হয়তো আকাশ ছোঁয়া বরফে ঢাকা।
সেখানকার বনের গাছগুলো হয়তো সব অদ্ভুত আর অচেনা।
সেখানে হয়তো এমন সব মানুষ থাকে যাদের পোশাক, ভাষা বা জীবনযাত্রা আমাদের মতো নয়।
সবশেষে শিশুটির মনে এক তীব্র ইচ্ছা জাগে যে, সে যদি পাখির মতো ডানা মেলে বা ওই নৌকায় চড়ে সেই দূর, অজানা দেশে চলে যেতে পারত এবং দেখে আসতে পারত সেখানে কী লুকিয়ে আছে!
অজানাকে জানার কৌতূহল: মানুষের মনের চিরন্তন স্বভাব হলো অজানাকে জানা। শিশুদের মনে এই কৌতূহল আরও বেশি থাকে। চারপাশের চেনা সীমানা ছাড়িয়ে দূর দিগন্তে কী আছে, তা জানার এক সহজাত আকাঙ্ক্ষা এই কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে।
কল্পনাশক্তির বিকাশ: নদী, নৌকা, পাহাড় এবং সমুদ্রের ওপারের এক কাল্পনিক দেশের চিত্র আঁকার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ শিশুদের কল্পনার ডানা মেলে দিতে শিখিয়েছেন।
মুক্তির আনন্দ: ঘরের কোণে বা চেনা গণ্ডির মধ্যে বন্দি না থেকে মুক্ত পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ানোর যে আনন্দ, কবিতাটির ছত্রে ছত্রে সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
কবিতার কিছু স্মরণীয় লাইন: "নদীর ঘাটের কাছে/ নৌকো বাঁধা আছে, নাইতে যখন যাই দেখি সে/ জলে ঢেউয়ে নাচে। আজ গিয়েছে সেথা/ কোন্ দূর দেশে, সেথায় নতুন ঘরে/ কেমন নতুন বেশে।"