সহকারী শিক্ষক
১১ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৪
সরকার হলো রাষ্ট্রের মুখপাত্র এবং রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের রয়েছে তিনটি প্রধান অঙ্গ: আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ। রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার ধরন বিভিন্ন দেশে ভিন্ন হতে পারে। প্রধানত, ক্ষমতা বন্টনের নীতি এবং শাসন ও আইন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে সরকার ব্যবস্থাকে শ্রেণিবিভাগ করা হয়।
নিচে একটি সারণির মাধ্যমে সরকারের প্রধান প্রধান শ্রেণিবিভাগ তুলে ধরা হলো:
| ভিত্তি | সরকারের শ্রেণিবিভাগ | উদাহরণ (দেশ) |
| ১. ক্ষমতা বন্টনের নীতি অনুযায়ী | ক. এককেন্দ্রিক সরকার খ. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার | বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ভারত, যুক্তরাষ্ট্র |
| ২. শাসন ও আইন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে | ক. সংসদীয় সরকার খ. রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার | বাংলাদেশ, ভারত যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স |
| ৩. রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা লাভের পদ্ধতি অনুযায়ী | ক. রাজতন্ত্র খ. প্রজাতন্ত্র | যুক্তরাজ্য, জাপান বাংলাদেশ, ভারত |
এই নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কীভাবে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে বন্টন করা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে সরকারকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
এককেন্দ্রিক সরকার (Unitary Government): যে সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সব শাসনক্ষমতা একটিমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে। এখানে কোনো প্রশাসনিক প্রদেশ বা রাজ্য সরকার থাকে না। কেন্দ্র থেকেই পুরো দেশ পরিচালিত হয়। স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিটগুলো কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার (Federal Government): যে সরকার ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের শাসনক্ষমতা কেন্দ্র ও প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর মধ্যে বন্টন করা হয়, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে। এখানে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক উভয় ধরণের সরকার থাকে। সাধারণত বড় ভূখণ্ডবিশিষ্ট দেশগুলোতে এই ধরণের সরকার ব্যবস্থা দেখা যায়।
শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে কেমন সম্পর্ক বিদ্যমান, তার ওপর ভিত্তি করে সরকারকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
সংসদীয় সরকার (Parliamentary Government): যে সরকার ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে এবং আইন বিভাগের আস্থাভাজনদের নিয়ে সরকার গঠিত হয়, তাকে সংসদীয় সরকার বলে। একে মন্ত্রিসভা শাসিত সরকারও বলা হয়। এ ধরণের ব্যবস্থায় সাধারণত একজন নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান এবং একজন প্রকৃত সরকারপ্রধান (যেমন- প্রধানমন্ত্রী) থাকেন।
রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার (Presidential Government): যে সরকার ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ আইন বিভাগের কাছে জবাবদিহি করে না এবং রাষ্ট্রপতি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন, তাকে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার বলে। এখানে রাষ্ট্রপতিই প্রকৃত সরকারপ্রধান এবং ক্ষমতার চূড়ান্ত অধিকারী। আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন করে এবং রাষ্ট্রপতি শাসন বিভাগ পরিচালনা করেন।
রাষ্ট্রপ্রধান কীভাবে তার ক্ষমতা লাভ করেন, তার ওপর ভিত্তি করে সরকারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
রাজতন্ত্র (Monarchy): উত্তরাধিকার সূত্রে বা বংশানুক্রমিকভাবে যদি কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রধান হন, তবে তাকে রাজতন্ত্র বলে। বর্তমানে সাধারণত নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র দেখা যায়, যেখানে রাজা বা রানি শুধু মর্যাদাগতভাবে রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন, কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে থাকে।
প্রজাতন্ত্র (Republic): যে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রধান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন, তাকে প্রজাতন্ত্র বলে। এখানে কোনো বংশানুক্রমিক শাসক থাকে না। রাষ্ট্রপ্রধানের মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকে এবং ক্ষমতার উৎস মূলত জনগণ।
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, এককেন্দ্রিক ও প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা প্রধানত সংসদীয় পদ্ধতির। এর অর্থ হলো, বাংলাদেশে আইন বিভাগের সদস্যদের মধ্য থেকেই মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয় এবং শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। যুক্তরাজ্য ও ভারতও সংসদীয় ব্যবস্থার উদাহরণ, তবে যুক্তরাজ্যে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র এবং ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্র একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ও রাষ্ট্রপতিশাসিত রাষ্ট্র, যেখানে রাজতন্ত্র নেই। প্রতিটি দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে সরকার ব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন হয়।