সহকারী শিক্ষক
১১ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১০
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ও অনুকরণীয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেয়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতা দিয়ে বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর (Top Troops Contributing Countries) অন্যতম হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংকটাপন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত আছেন।
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে, বিশেষ করে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বহু দেশে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করেছেন। উল্লেখযোগ্য কিছু দেশের নাম নিচে দেওয়া হলো যেখানে বাংলাদেশিরা কাজ করেছেন বা করছেন:
আফ্রিকা: নামিবিয়া, সোমালিয়া, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান, মালি ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র।
ইউরোপ ও এশিয়া: হাইতি, পূর্ব তিমুর, কুয়েত এবং পূর্বতন যুগোশ্লাভিয়া।
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা কেবল যুদ্ধ থামানো বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থেই কাজ করেন না, বরং তারা স্থানীয় জনগণের মন জয় করেছেন। চিকিৎসা সেবা প্রদান, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে তারা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বিশেষ সম্মান: আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে (Sierra Leone) বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে 'বাংলা' ভাষাকে দেশটির অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারী পুলিশ এবং সেনা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। বিশেষ করে হাইতি ও কঙ্গোর মতো দেশে বাংলাদেশের নারী পুলিশ দল (FPU) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
যেকোনো চরম ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছেন। বহু সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যেখানে অন্য দেশের শান্তিরক্ষীরা যেতে দ্বিধাবোধ করেছে, সেখানে বাংলাদেশিরা সাহসিকতার সাথে শান্তি পুনরুদ্ধার করেছে।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার এই মহান দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে বাংলাদেশের বহু বীর সন্তান নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। যুদ্ধরত পক্ষগুলোর আক্রমণ, মাইন বিস্ফোরণ কিংবা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এ পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন। তাদের এই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করেছে।
মিশনে যোগদান: বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (UNIIMOG - ইরান-ইরাক মিশন) সামরিক পর্যবেক্ষক প্রেরণের মাধ্যমে অংশ নেয়।
পুলিশ বাহিনীর যোগদান: ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনে প্রথম বাংলাদেশ পুলিশ অংশ নেয়।
অর্জন: বিশ্বশান্তি রক্ষায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে "শান্তির দূত" হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।