“ মাদার তেরেসা ''প্রবন্ধে মূলত একজন মহান ও মহীয়সী নারীর মানবসেবার চরম আত্মত্যাগের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। মাদার তেরেসা ছিলেন আলবেনীয় বংশোদ্ভূত, কিন্তু তাঁর কর্মক্ষেত্র ছিল বিশ্বজুড়ে, যার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল আমাদের এই উপমহাদেশ (বিশেষ করে ভারতের কলকাতা)।
- সেবার দীক্ষা ও কলকাতায় আগমন: মাদার তেরেসা খুব ছোটবেলা থেকেই মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে ব্যথিত হতেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি খ্রিষ্টান মিশনারি দল 'লরেটো সিস্টার্স'-এ যোগ দেন এবং সেবা কাজের দীক্ষা নেন। পরবর্তীতে ভারতের কলকাতায় এসে সেন্ট মেরি'স স্কুলে শিক্ষাকতার কাজ শুরু করেন। তবে চার দেয়ালের ভেতরের চেয়ে বাইরের বস্তির নোংরা পরিবেশের অবহেলিত মানুষের কষ্ট তাঁকে বেশি আলোড়িত করে।
- মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা: বস্তির অসহায়, অসুস্থ ও অনাথ মানুষদের আশ্রয় ও সুচিকিৎসার জন্য তিনি লরেটো সিস্টার্স ছেড়ে কলকাতায় নিজের উদ্যোগে কাজ শুরু করেন। তিনি গড়ে তোলেন 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি' নামের এক সেবাশ্রম। এছাড়া মৃত্যুপথযাত্রী অসহায় মানুষের জন্য 'নির্মল হৃদয়' এবং কুষ্ঠরোগীদের জন্য 'প্রেমনিবাস' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাদেশের মানুষের পাশে: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ বাঙালি শরণার্থীর খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তিনি। স্বাধীনতার পরও ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে এসে তিনি ঢাকার ইসলামপুরে 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'র শাখা খোলেন এবং পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলেন।
- পুরস্কার ও শেষ জীবন: মানবসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন। তবে নোবেল পুরস্কারের অর্থও তিনি নিজের জন্য ব্যয় না করে ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে দান করে দেন। ১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর এই মহান সেবিকা মৃত্যুবরণ করেন।
মূল শিক্ষা
মাদার তেরেসার জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি যে—ধর্ম, জাতি বা দেশের সীমানা দিয়ে মানুষকে ভাগ করা যায় না। প্রকৃত মানুষ তিনিই, যিনি অন্যের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ান এবং নিজের জীবনকে মানবসেবায় বিলিয়ে দেন।