সহকারী শিক্ষক
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৬
পাইথন (Python) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী প্রোগ্রামিং ভাষা। এটি সম্পর্কে বিস্তারিত ও এর ইতিহাস নিচে বাংলায় আলোচনা করা হলো:
· উৎপত্তি: পাইথন ভাষাটির ধারণা শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে। তবে এর মূল কাজ শুরু হয় ১৯৮৯ সালে।
· সৃষ্টিকর্তা: নেদারল্যান্ডসের কম্পিউটার বিজ্ঞানী গুইডো ভ্যান রোসম (Guido van Rossum) এটি তৈরি করেন। সেন্ট্রাম উইস্কুন্ড অ্যান্ড ইনফরম্যাটিকা (CWI) প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় তিনি ক্রিসমাসের ছুটির অবসরে শখের বশে পাইথন তৈরি শুরু করেন।
· নামকরণের ইতিহাস: ভাষাটির নাম কোনো সাপ (Python) থেকে নেওয়া হয়নি। গুইডো ভ্যান রোসম তখন বিখ্যাত ব্রিটিশ কমেডি শো "Monty Python’s Flying Circus"-এর ভক্ত ছিলেন। এই নামটির অনুপ্রেরণাতেই তিনি এর নাম রাখেন "Python"।
· রিলিজ: পাইথনের প্রথম সংস্করণ (Python 0.9.0) প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালে। এরপর ২০০০ সালে আসে Python 2.0 এবং ২০০৮ সালে আসে Python 3.0। বর্তমানে পাইথনের ৩য় সংস্করণই বিশ্বজুড়ে প্রধানত ব্যবহৃত হচ্ছে (পাইথন ২ এখন সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে)।
১. সহজ ও পঠনযোগ্য সিনট্যাক্স (Simple & Readable): পাইথনের সিনট্যাক্স সাধারণ ইংরেজি ভাষার খুব কাছাকাছি। ফলে নতুন প্রোগ্রামারদের জন্য এটি শেখা অত্যন্ত সহজ। ২. ইন্টারপ্রেটেড ভাষা (Interpreted Language): পাইথন কোড লাইন বাই লাইন এক্সিকিউট বা রান হয়, যার ফলে কোড টেস্ট করা এবং ডিবাগ করা সহজ। ৩. ডাইনামিক্যালি টাইপড (Dynamically Typed): ভেরিয়েবল ডিকলার করার সময় ডেটা টাইপ (যেমন- int বা float) আলাদা করে বলে দিতে হয় না, পাইথন নিজে থেকেই বুঝে নেয়। ৪. অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড (Object-Oriented): এটি প্রসিডিউরাল এবং অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড—উভয় প্রোগ্রামিং প্যারাডাইমকেই সমর্থন করে। ৫. বিশাল লাইব্রেরি সাপোর্ট (Rich Libraries): ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদির জন্য পাইথনে হাজার হাজার বিল্ট-ইন ও থার্ড-পার্টি লাইব্রেরি (যেমন- Pandas, NumPy, TensorFlow, Django) রয়েছে।
পাইথনের বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এটি আজ প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষে অবস্থান করছে:
· মেশিন লার্নিং ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা সায়েন্সের ক্ষেত্রে পাইথন বর্তমানে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছে।
· ওয়েব ডেভেলপমেন্ট: Django, Flask-এর মতো জনপ্রিয় ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করে সহজে শক্তিশালী ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ তৈরি করা যায়।
· ডেটা অ্যানালিসিস ও ভিজ্যুয়ালাইজেশন: বিশাল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ ও গ্রাফ আকারে প্রকাশ করার জন্য এটি সেরা।
· অটোমেশন ও স্ক্রিপ্টিং: দৈনন্দিন ছোটখাটো ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ (যেমন- ফাইল ম্যানেজমেন্ট, ওয়েব স্ক্রেপিং) স্বয়ংক্রিয় করতে পাইথন দারুণ কার্যকর।
· গেম ডেভেলপমেন্ট: পাইথনের Pygame লাইব্রেরি ব্যবহার করে ছোটখাটো গেম তৈরি করা সম্ভব।
পরবর্তী ক্লাশে আমরা পাইথন প্রোগ্রামিং কিভাবে শুরু করে তা জানব।