জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'কুলি-মজুর' কবিতার মূলভাব হলো মানবসভ্যতা গঠনে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের প্রতি বিত্তবান ও শোষক শ্রেণীর অবমূল্যায়ন বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। কবি দেখিয়েছেন সমাজের সব বড় বড় নির্মাণ ও অগ্রগতিতে কুলিমজুরদের ঘাম ও রক্ত জড়িত, অথচ তারা বরাবরই অবহেলিত।
মানবসভ্যতার মূল কারিগর হলো এই সাধারণ কুলি ও মজুর।
তাদের শ্রমের বিনিময়েই গড়ে উঠেছে প্রাসাদ, ইমারত, রাস্তাঘাট ও রেললাইন।
বিত্তবানরা আরাম-আয়েশে দিন কাটালেও তাদের সুখের ভিত্তি এই শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট ও ত্যাগ।
শোষিত শ্রেণীর বঞ্চনা ও অধিকার
সমাজে যুগ যুগ ধরে কুলি-মজুররা অত্যাচার ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছে।
ধনিক শ্রেণী বা বাবুরা তাদের মানুষ বলেই গণ্য করতে চায় না।
কবি এই বৈষম্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং তাদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন।
কাজী নজরুল ইসলাম সব ভেদাভেদ ভুলে সাম্যবাদী সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন।
মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই; রাজা-প্রজা কিংবা ধনী-দরিদ্র সবাই সমান।
শ্রমজীবী মানুষের জয়গান গেয়ে কবি তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।