নিয়মিত ও নির্দিষ্ট দিকে সমুদ্রের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে সমুদ্রের পানির এই বিশাল ও গতিশীল প্রবাহই হলো সমুদ্র স্রোত। এটি মূলত সমুদ্রের ওপরের বা গভীরের পানির অনুভূমিক চলাচল।
সমুদ্র স্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণসমূহ
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: বাতাস যখন সমুদ্রের ওপর দিয়ে বয়, তখন তা পানির সাথে ঘষে গতি তৈরি করে। এর ফলে পানি সামনের দিকে এগিয়ে চলে।
পৃথিবীর আবর্তন গতি: পৃথিবীর নিজ অক্ষে ঘোরার কারণে তৈরি হওয়া কোরিওলিস বলের প্রভাবে পানি সোজা না চলে উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাঁ দিকে বেঁকে যায়।
পানির তাপমাত্রার তারতম্য: বিষাক্ত অঞ্চলে সূর্য বেশি তাপ দেয়, তাই সেখানকার পানি গরম হয়ে হালকা হয়। মেরু অঞ্চলে ঠান্ডা পানি ভারী হয়ে নিচে নামে। এই গরম ও ঠান্ডা পানির আবর্তনে স্রোত হয়।
লবণাক্ততার ভিন্নতা: বেশি লবণাক্ত পানি ভারী হয়ে নিচে বসে যায়। কম লবণাক্ত বা হালকা পানি তখন ওপরে ভেসে ওঠে। এর ফলে পানির ঘনত্বের তারতম ঘটে এবং স্রোতের সৃষ্টি হয়।
অন্যান্য কারণ: বরফ গলা, বাষ্পীভবন এবং উপকূলের আকৃতিও স্রোত সৃষ্টি ও পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে।