নিউক্লিয়াস হলো ইউক্যারিওটিক কোষের প্রোটোপ্লাজমের সবচেয়ে ঘন, পর্দাঘেরা এবং প্রায় গোলাকার অংশ যা কোষের সব জৈবনিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং বংশগতির বৈশিষ্ট্য বহন করে। বিজ্ঞানী রবার্ট ব্রাউন ১৮৩১ সালে কোষে প্রথম নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।
একটি আদর্শ কোষের নিউক্লিয়াস প্রধানত চারটি অংশে বিভক্ত:
নিউক্লিয়ার ঝিল্লি (Nuclear Membrane): এটি নিউক্লিয়াসকে ঘিরে থাকা দ্বি-স্তরী পর্দা, যা সাইটোপ্লাজম থেকে নিউক্লিয়াসের ভেতরের অংশকে আলাদা রাখে এবং এর ছিদ্রপথে বস্তু চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
নিউক্লিওপ্লাজম (Nucleoplasm): এটি নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকা জেলির মতো অর্ধ-কঠিন তরল, যেখানে অন্যান্য উপাদানগুলো ভেসে থাকে।
নিউক্লিওলাস (Nucleolus): নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকা অপেক্ষাকৃত ঘন ও ছোট গোলাকার বস্তু, যা রাইবোজোম তৈরিতে সাহায্য করে।
ক্রোমাটিন জালিকা (Chromatin Network): নিউক্লিয়াপ্রাষ্টে জালের মতো ছড়ানো ডিএনএ (DNA) ও প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত তন্তু, যা কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম ও জিনগত তথ্য বহন করে।
কোষের যাবতীয় বিপাকীয় ও জৈবিক কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা।
ডিএনএ (DNA)-র মাধ্যমে বংশগতির বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তর করা।
নতুন প্রোটিন সংশ্লেষণ ও কোষ বিভাজনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা।