Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:১৩ পূর্বাহ্ণ

মাদকাসক্তি ও এইডস

এইডস (AIDS) হলো এইচআইভি (HIV) ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি মারাত্মক রোগ, যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) ধীরে ধীরে ধ্বংসকরে দেয়। অন্যদিকে মাদকাসক্তি হলো মাদকদ্রব্যের (যেমনহেরোইন, কোকেইন) উপর মানসিক ওশারীরিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়া, যামস্তিষ্ক ও শরীরের ক্ষতিকরে।

মাদকাসক্তিকীভাবে এইডসের ঝুঁকি বাড়ায়:

১. দূষিতসিরিঞ্জ/সুইভাগাভাগি (সবচেয়েবড়কারণ): মাদকাসক্তরা প্রায়ই শিরায় (ইনজেকশন দিয়ে) মাদক গ্রহণ করে।একাধিক ব্যক্তি একই সিরিঞ্জ, সুইবা পানি ব্যবহার করলে, যদি তাদের মধ্যে একজন এইচআইভি পজিটিভহয়, তাহলে ভাইরাসটি সরাসরি রক্তের মাধ্যমে বাকিদের শরীরে প্রবেশ করে। এভাবে মাদকাসক্তদেরমধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি।
২. বিবেকহীনঝুঁকিপূর্ণআচরণ: মাদক গ্রহণের পরমানুষের সংবেদনশীলতা ও বিচারবুদ্ধি লোপপায়। ফলে তারা সুরক্ষা (কনডম) ছাড়া একাধিক যৌন সঙ্গীর সাথেসম্পর্ক স্থাপন করে, যা যৌনসংক্রমণের মাধ্যমে এইডস ছড়ানোর আরেকটিবড় পথ।
৩. শরীরেররোগপ্রতিরোধক্ষমতাদুর্বলহওয়া: নিয়মিত মাদক সেবনে শরীরেররোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল হয়েপড়ে। ফলে এইচআইভি ভাইরাসশরীরে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এবং খুবদ্রুত এইডস পর্যায়ে চলেযায়।
৪. অন্যান্যসংক্রমণ: মাদকাসক্তদের ক্লিনিক্যাল যত্ন নেওয়ার প্রবণতাকম থাকে এবং প্রায়ইতারা অবহেলিত জীবনযাপন করে। এর ফলেযক্ষ্মা, হেপাটাইটিস বি/সি'রমতো আরও মারাত্মক রোগেআক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, যা এইডস রোগীরমৃত্যুকে ত্বরান্বিত করে।

প্রতিরোধওসমাধান:

  • মাদকথেকেদূরেথাকা: মাদকাসক্তি সম্পূর্ণভাবে বর্জন করলে এই পথে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি শূন্যে নেমে আসে।

  • জীবাণুমুক্তউপকরণ: যারা মাদক ছাড়তে পারছে না, তাদের জন্য নিডল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত সুই ব্যবহার করা এবং নিরাপদ যৌনতা (কনডম ব্যবহার) নিশ্চিত করা জরুরি।

  • চিকিৎসা: মাদকাসক্তদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র, কাউন্সেলিং এবং মেথাডোন/বুপ্রেনরফিনের মতো প্রতিস্থাপন থেরাপি রয়েছে। অন্যদিকে, এইচআইভি পজিটিভ হলে নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরালথেরাপি (ART) গ্রহণ করলে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তারা সুস্থ জীবনযাপন করতে পারে।

  • সচেতনতাওসহানুভূতি: সমাজে মাদকাসক্ত এবং এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য না করে তাদের চিকিৎসা ও সঠিক পরামর্শের দিকে এগিয়ে নেওয়া উচিত, কারণ সঠিক চিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন পেলে এই রোগগুলো নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

সবচেয়েবড়কথাহলো, মাদকাসক্তিরপরিণামসম্পর্কেসচেতনথাকা, একবারওমাদকসেবননাকরাএবংসুরক্ষিতজীবনযাপনকরাইএইডসপ্রতিরোধেরসবচেয়েকার্যকরউপায়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট