এসডিজি (SDG) এর পূর্ণরূপ হলো Sustainable Development Goals, যাকে বাংলায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বলা হয়। ২০১৫ সালে জাতিসংঘ বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবী রক্ষা এবং সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে, যার মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
এসডিজিতে মোট ১৭টি মূল লক্ষ্যমাত্রা এবং ১৬৯টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য (Targets) রয়েছে।
এসডিজি-র ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নিচে দেওয়া হলো:
লক্ষ্য ১: দারিদ্র্য বিলোপ (পৃথিবীর সব স্থান থেকে সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান)।
লক্ষ্য ২: ক্ষুধা মুক্তি (ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টিমান অর্জন এবং টেকসই কৃষির প্রসার)।
লক্ষ্য ৩: সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ (সকল বয়সী মানুষের জন্য সুস্থ জীবন নিশ্চিতকরণ ও কল্যাণ বৃদ্ধি)।
লক্ষ্য ৪: গুণগত শিক্ষা (অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি)।
লক্ষ্য ৫: জেন্ডার সমতা (লিঙ্গ সমতা অর্জন এবং সকল নারী ও মেয়েদের ক্ষমতায়ন)।
লক্ষ্য ৬: নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (সবার জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ)।
লক্ষ্য ৭: সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি (সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা)।
লক্ষ্য ৮: শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সবার জন্য শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি)।
লক্ষ্য ৯: শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো (স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো নির্মাণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়নের প্রসার এবং উদ্ভাবন বা নতুন সৃষ্টিকে উৎসাহিত করা)।
লক্ষ্য ১০: অসমতা হ্রাস (দেশের অভ্যন্তরে ও দেশসমূহের মধ্যকার অসমতা কমিয়ে আনা)।
লক্ষ্য ১১: টেকসই নগর ও জনপদ (নগর ও মানব বসতিগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, স্থিতিস্থাপক ও টেকসই করা)।
লক্ষ্য ১২: পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন (টেকসই ভোগ ও উৎপাদন পদ্ধতি নিশ্চিত করা)।
লক্ষ্য ১৩: জলবায়ু কার্যক্রম (জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ)।
লক্ষ্য ১৪: জলজ জীবন (টেকসই উন্নয়নের জন্য মহাসাগর, সাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার)।
লক্ষ্য ১৫: স্থলজ জীবন (স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধার, বনভূমির টেকসই ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ মোকাবিলা এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি রোধ করা)।
লক্ষ্য ১৬: শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান (টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন, সবার জন্য ন্যায়বিচারের সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং সব স্তরে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা)।
লক্ষ্য ১৭: লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব (টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব পুনরুজ্জীবিত করা ও বাস্তবায়নের উপায়গুলো শক্তিশালী করা)।
আপনি কি এসডিজি-র কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান? আমাদের জানান, আমি প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারব।