সহকারী শিক্ষক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ গণিত
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
গণিত শুধু বই, খাতা কিংবা শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতির নানা সৃষ্টি পর্যবেক্ষণ করলেও আমরা গণিতের অসাধারণ কিছু নিয়ম ও বিন্যাস দেখতে পাই। গাছের পাতা, ফুলের পাপড়ি, শামুকের খোলস, পাইনকোন এবং বিশেষ করে সূর্যমুখীর ফুলের বীজের বিন্যাসে গণিতের চমৎকার কিছু নিদর্শন দেখা যায়।
সূর্যমুখীর ফুলের কেন্দ্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, অসংখ্য বীজ সরল সারিতে নয়; বরং তারা দুটি বিপরীতমুখী সর্পিল বিন্যাসে সাজানো থাকে। এই সর্পিলগুলোর সংখ্যা অনেক সময় ফিবোনাক্কি ধারার পরপর কয়েকটি সংখ্যার কাছাকাছি হয়। তাই সূর্যমুখীকে ফিবোনাক্কি সংখ্যার ধারণা বোঝানোর একটি চমৎকার প্রাকৃতিক মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
ফিবোনাক্কি সংখ্যা হলো এমন একটি সংখ্যা-ধারা যেখানে প্রতিটি সংখ্যা তার আগের দুটি সংখ্যার যোগফল। ধারাটি হলো— ০, ১, ১, ২, ৩, ৫, ৮, ১৩, ২১, ৩৪, ৫৫, ৮৯, ১৪৪, ২৩৩, ...
সূর্যমুখীর কেন্দ্রের অসংখ্য ক্ষুদ্র বীজ অত্যন্ত ঘনভাবে সাজানো থাকে। কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বীজগুলো কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে যাওয়ার সময় দুই দিকের সর্পিল পথ তৈরি করে।একদিকে ঘড়ির কাঁটার মতো এবং অন্যদিকে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে সর্পিল গণনা করলে অনেক সূর্যমুখীতে এমন সংখ্যা পাওয়া যায়—
৩৪ ও ৫৫ অথবা ৫৫ ও ৮৯ অথবা কাছাকাছি অন্যান্য ফিবোনাক্কি জোড়া।
যেমন— ৩৪,৫৫,৮৯,১১৪,২৩৩ এগুলো ফিবোনাক্কি ধারার পরপর সদস্য।
ছবির মডেলে বামমুখী সর্পিল → ৩৪ ,ডানমুখী সর্পিল → ৫৫
এখানে ৩৪+৫৫=৮৯ অর্থাৎ সূর্যমুখীর বীজের সর্পিল বিন্যাসের সঙ্গে ফিবোনাক্কি ধারার একটি সুন্দর সম্পর্ক চোখে পড়ে। তবে মনে রাখতে হবে: এটি কোনো কঠোর নিয়ম নয় যে প্রত্যেক সূর্যমুখীতে অবশ্যই ৩৪ ও ৫৫টি সর্পিল থাকবে। জাত, ফুলের আকার ও বিকাশের পরিবেশের কারণে সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।