Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

সমযোজী বন্ধন

সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond) ঃ

  • দুটি অধাতব পরমাণুর মধ্যে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে গঠিত রাসায়নিক বন্ধন। অধাতব পরমাণুগুলো যখন তাদের নিকটস্থ নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো স্থায়ী ইলেকট্রন বিন্যাস (অষ্টক বা দ্বিত্ব) অর্জন করতে চায়, তখন ইলেকট্রন আদান-প্রদান করার বদলে তারা তাদের যোগ্যতা স্তরের ইলেকট্রন সমানভাবে ভাগাভাগি (শেয়ার) করে এই বন্ধন তৈরি করে।

গঠন প্রক্রিয়া ঃ


১. দুটি অধাতু পরমাণু কাছাকাছি আসে।

২. প্রত্যেক পরমাণু তার শেষ শক্তিস্তর থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন জোগান দিয়ে এক বা একাধিক ইলেকট্রন জোড় তৈরি করে।

৩. উভয় পরমাণু এই শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড় সমানভাবে ব্যবহার করে তাদের ইলেকট্রন বিন্যাস স্থায়ী করে।


উদাহরণ ঃ


  • হাইড্রোজেন অণু : দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু তাদের একটি করে ইলেকট্রন শেয়ার করে ১টি একক সমযোজী বন্ধন গঠন করে।

  • পানি : একটি অক্সিজেন  পরমাণু দুটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে দুটি ইলেকট্রন জোড় শেয়ার করে পানি তৈরি করে।

  • মিথেন : একটি কার্বন  পরমাণু চারটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সাথে মোট চারটি ইলেকট্রন জোড় শেয়ার করে।


    প্রকারভেদঃ


  • একক বন্ধন (Single Bond): পরমাণুদ্বয় ১ জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে ।

  • দ্বিবন্ধন (Double Bond): পরমাণুদ্বয় ২ জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে ।

  • ত্রিবন্ধন (Triple Bond): পরমাণুদ্বয় ৩ জোড়া ইলেকট্রন শেয়ার করে।


    বৈশিষ্ট্যঃ


  • ভৌত অবস্থা: সাধারণত নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কবিশিষ্ট হয়। ঘরের তাপমাত্রায় গ্যাসীয়, তরল বা নরম কঠিন অবস্থায় থাকে।

  • গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: এদের অণুগুলোর মধ্যে দুর্বল ভ্যান ডার ওয়ালস বল কাজ করে, তাই গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক আয়নাক যৌগের চেয়ে কম।

  • বিদ্যুৎ পরিবাহিতাসমূহ: অধিকাংশ সমযোজী যৌগ তড়িৎ পরিবহন করে না (মুক্ত ইলেকট্রন বা আয়ন না থাকায়)।

  • দ্রাব্যতা: পানিতে (পোলার দ্রাবক) সাধারণত অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবকে (যেমন: বেনজিন, অ্যালকোহল) দ্রবণীয়। তবে পোলার সমযোজী যৌগ পানিতে দ্রবীভূত হয়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট