Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:১১ অপরাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট খরা
লবণাক্ততা (Salinity) বলতে মূলত পানি বা মাটিতে দ্রবীভূত লবণের (প্রধানত সোডিয়াম ক্লোরাইড বা সাধারণ লবণ) পরিমাণকে বোঝায়। এটি পরিবেশ, কৃষি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিশাল প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে (যেমন: খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট) লবণাক্ততা একটি বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রথম আলো +2
লবণাক্ততা বিষয়ের মূল তথ্যগুলো নিচে কয়েকটি ভাগে আলোচনা করা হলো:
১. লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণ
  • জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে সমুদ্রের নোনা পানি স্থলভাগে বা নদীর মিষ্টি পানিতে ঢুকে পড়ছে।
    Daily Bonik Barta
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগ: ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় বাঁধ ভেঙে নোনা পানি লোকালয়ে এবং ফসলি জমিতে প্রবেশ করে।
    Jagonews24.com
  • নদীর পানির প্রবাহ হ্রাস: উজান থেকে আসা সীমান্তবর্তী নদীগুলোর স্বাভাবিক মিষ্টি পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সমুদ্রের নোনা পানি ভেতরের দিকে চলে আসে।
    Daily Bonik Barta
  • বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষ: ঘের তৈরি করে লবণাক্ত পানি আটকে রেখে চিংড়ি চাষ করার ফলে আশেপাশের মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়।
    দৈনিক পূর্বাঞ্চল +1
২. ক্ষতিকর প্রভাব
  • কৃষি ও মাটির উর্বরতা হ্রাস: মাটিতে লবণাক্ততা বাড়লে ফসলের স্বাভাবিক পুষ্টি গ্রহণ ব্যাহত হয়, ফলে ধান ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়。
    দৈনিক পূর্বাঞ্চল
  • সুপেয় পানির অভাব: পুকুর, খাল এবং ভূগর্ভস্থ নলকূপের পানি নোনা হয়ে যাওয়ায় উপকূলের মানুষকে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়।
    প্রথম আলো +1
  • স্বাস্থ্যঝুঁকি: অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি পানের ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং গর্ভবতী নারীদের নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
    Facebook·24 Live Newspaper
৩. লবণাক্ততা মোকাবেলায় করণীয় ও সমাধান
  • লবণাক্ততা সহনশীল জাতের চাষ: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এমন কিছু বিশেষ ধানের জাত (যেমন: ব্রি ধান৬৭, ব্রি ধান৯৭ ইত্যাদি) উদ্ভাবন করেছে, যা চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
    কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)
  • বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting): বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি বড় ট্যাংকে বা জারে সংরক্ষণ করে তা বছরের বাকি সময় সুপেয় পানি হিসেবে ব্যবহার করা।
  • টেকসই বাঁধ নির্মাণ: সমুদ্রের পানি প্রবেশ রোধে উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তিশালী ও উঁচু টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা।
লবণাক্ততার কোন দিকটি সম্পর্কে আপনি আরও বিস্তারিত জানতে চান?
  • কৃষিতে এর প্রভাব ও চাষাবাদের প্রযুক্তি
  • মানবদেহে লবণাক্ত পানির স্বাস্থ্যঝুঁকি
  • মাটি ও পানির লবণাক্ততা দূর করার উপায়
জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) কারণে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে, যার অন্যতম সবচেয়ে মারাত্মক রূপ হলো দীর্ঘস্থায়ী খরা (Drought)। বাংলাদেশে বিশেষ করে বরেন্দ্র অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে (যেমন: রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ) খরার প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত খরা এবং এর প্রভাবের মূল বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
খরা সৃষ্টির প্রধান কারণসমূহ
  • অনিয়মিত বৃষ্টিপাত: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্ষা ঋতুর স্বাভাবিক চক্র ভেঙে গেছে। অনেক সময় বছরের দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বৃষ্টিই হয় না।
  • অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি: গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে, যা মাটি ও জলাশয়ের পানিকে দ্রুত বাষ্পীভূত করে ফেলে।
  • ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া: বৃষ্টির অভাবে চাষাবাদের জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে মাটির নিচের পানি তোলার কারণে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে।
খরার মারাত্মক প্রভাব
  • ফসলি জমি চৌচির: পানির অভাবে কৃষিজমি শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায় এবং মাটিতে গভীর ফাটল দেখা দেয় (যেমনটি ওপরের ছবিতে দেখছেন)। ফলে আমন বা বোরো ধানের মতো প্রধান ফসলের আবাদ ব্যাহত হয়।
  • নদী-নালা ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া: খাল, বিল এবং ছোট ছোট নদীগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়, যার ফলে মিঠা পানির মাছ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যায়।
  • খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক ক্ষতি: খরায় ফসল নষ্ট হলে চাল, ডাল ও সবজির উৎপাদন কমে যায়, যা সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তার ওপর আঘাত হানে এবং দরিদ্র কৃষকদের চরম ঋণের মুখে ফেলে।
  • সুপেয় পানির আকাল: শুধু চাষাবাদ নয়, খরার সময়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার ও খাবার পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট