রাজপুঁটি বা থাই সরপুঁটি একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং দ্রুত বর্ধনশীল মাছ, যা আমাদের দেশের ছোট-বড় সব ধরনের জলাশয়ে খুব সহজেই চাষ করা যায়। নিচে এই মাছ চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলো।
Jagonews24.com +1
রাজপুঁটি মাছ সম্পর্কে কিছু কথা
দ্রুত বৃদ্ধি: এই মাছটি খুব দ্রুত বাড়ে। মাত্র ৫ থেকে ৬ মাসেই এটি বিক্রির উপযোগী (২০০-২৫০ গ্রাম) হয়ে যায়।
খাবারের খরচ কম: রাজপুঁটি মূলত শাকাহারী বা সর্বভুক প্রজাতির। এরা পুকুরের নরম ঘাস, ক্ষুদিপানা, টোপাপানা এবং বিভিন্ন লতাপাতা খেতে পছন্দ করে। ফলে চাষের খরচ অনেক কম হয়।
সহনশীলতা: এরা কম অক্সিজেনযুক্ত পানি এবং প্রতিকূল পরিবেশেও চমৎকারভাবে টিকে থাকতে পারে।
চাষ পদ্ধতি
১. পুকুর প্রস্তুতকরণ
শুকানো ও চুন প্রয়োগ: শুকনো মৌসুমে পুকুরের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে তলার মাটি ১০-১৫ দিন রোদে শুকাতে হবে। পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে রাক্ষুসে মাছ দূর করতে হবে। এরপর প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে পাথুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
সার প্রয়োগ: চুন দেওয়ার ৭ দিন পর পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার (প্লাংকটন) তৈরির জন্য প্রতি শতাংশে ৪ কেজি গোবর, ১৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া সার পানিতে গুলে ছিটিয়ে দিতে হবে।
২. পোনা মজুদকরণ
সঠিক সময়: এপ্রিল-মে মাসে পোনা মজুদ করলে সবচেয়ে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
মজুদ ঘনত্ব: একক চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে সুস্থ-সবল ১৫০ থেকে ২০০টি পোনা (সাইজ ২-৩ ইঞ্চি) মজুদ করা যায়। কার্প জাতীয় মাছের সাথে মিশ্র চাষও করা যায়।
পোনা ছাড়ার নিয়ম: দুপুরের কড়া রোদে পোনা না ছেড়ে সকাল বা সন্ধ্যার ঠান্ডা আবহাওয়ায় পুকুরের পানির তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে পোনা ছাড়তে হবে。