উৎপত্তি ও পরিচিতি: তেলাপিয়ার আদি নিবাস মূলত আফ্রিকা মহাদেশে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এটি ব্যাপকভাবে চাষ করা হচ্ছে。 রান্না সহজ ও কাটা কম থাকায় অনেকে এটিকে 'অ্যাকুয়া চিকেন' বা জলাশয়ের মুরগি বলে থাকেন。
মনোসেক্স তেলাপিয়া: তেলাপিয়া মাছের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এরা খুব অল্প বয়সেই পুকুরে প্রচুর বাচ্চা দেয়, যার ফলে পুকুরে মাছের ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে আকার ছোট থেকে যায়। এই সমস্যা দূর করতে বর্তমানে হ্যাচারিতে হরমোন চিকিৎসার মাধ্যমে শুধু পুরুষ পোনা বা মনোসেক্স তেলাপিয়া (Monosex Tilapia) চাষ করা হয়। পুরুষ তেলাপিয়া স্ত্রী মাছের চেয়ে অনেক দ্রুত বাড়ে।
খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ: এরা সর্বভুক (Omnivorous) প্রকৃতির। পুকুরের প্রাকৃতিক ফাইটোপ্লাংকটন ও জুপ্লাংকটন থেকে শুরু করে বাজারে কিনতে পাওয়া যেকোনো কৃত্রিম ফিড এরা সহজেই খায়। তাছাড়া এরা পানির কম অক্সিজেন ও প্রতিকূল পরিবেশেও চমৎকারভাবে টিকে থাকতে পারে।
চাষের সময় ও বাজারজাতকরণ: পোনা ছাড়ার মাত্র ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে একেকটি মাছ বিক্রির উপযোগী (২০০-৩০০ গ্রাম) হয়ে যায়। বাজারে এই মাছের ব্যাপক চাহিদা ও সাশ্রয়ী দামের কারণে এটি সাধারণ মানুষের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখছে。