Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:০৭ অপরাহ্ণ

রুই মাছ চাষের পদ্ধতি
রুই মাছ সম্পর্কে কিছু কথা
  • জনপ্রিয়তা ও পুষ্টি: বাঙালির খাদ্যতালিকায় রুই মাছের স্থান সবার ওপরে। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ডি রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
  • খাদ্যাভ্যাস: রুই মাছ মূলত শৈবাল, ফাইটোপ্লাংকটন এবং পানির মধ্যস্তরের পচনশীল জৈব পদার্থ খেতে পছন্দ করে। কৃত্রিম ফিডও এরা খুব সহজে গ্রহণ করে।
  • মিশ্র চাষের সুবিধা: রুই মাছ পুকুরের মধ্যস্তরের খাবার খায় বলে একে কাতলা (উপরের স্তর) এবং মৃগেল (নিচের স্তর) মাছের সাথে একত্রে খুব চমৎকারভাবে মিশ্র চাষ করা যায়।

চাষ পদ্ধতি
১. পুকুর প্রস্তুতি ও চুন প্রয়োগ
  • পুকুরের পাড় ভালোভাবে মেরামত করে তলার অতিরিক্ত কাদা তুলে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে রাক্ষুসে মাছ দূর করার জন্য পুকুর শুকিয়ে নিতে হবে।
  • এরপর প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি হারে চুন পুরো পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। চুন প্রয়োগের ৭ দিন পর প্রতি শতাংশে ৪ কেজি গোবর, সার হিসেবে ১৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া পানিতে গুলে দিতে হবে যাতে পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হয়।
২. পোনা নির্বাচন ও মজুদ
  • ভালো ফলনের জন্য বিশ্বস্ত হ্যাচারি থেকে উন্নত জাতের (যেমন- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত দ্রুত বর্ধনশীল জি-৩ বা সুবর্ণ রুই) সুস্থ পোনা সংগ্রহ করতে হবে।
  • কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ৩৫ থেকে ৪০টি পোনা (সাইজ ৪-৫ ইঞ্চি) মজুদ করা যায়, যার মধ্যে রুই মাছের সংখ্যা থাকবে ৩০-৪০%।
৩. খাদ্য ও সার ব্যবস্থাপনা
  • মাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন নিয়মিতভাবে চালের কুঁড়া, গমের ভূষি এবং সরিষার খৈল মিশিয়ে সম্পূরক খাদ্য দিতে হবে। খাবারটি মাছের মোট ওজনের ২-৩% হারে দিনে দুইবার দেওয়া উচিত।
  • পুকুরে প্রাকৃতিক খাবারের (প্লাংকটন) উপস্থিতি বজায় রাখতে প্রতি ১৫ দিন পর পর সামান্য পরিমাণে জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন।
৪. মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ

সঠিক নিয়মে যত্ন নিলে ১০-১২ মাসের মধ্যে একেকটি রুই মাছের ওজন ১ থেকে ১.৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই সময়ে বেড় জাল টেনে বড় মাছগুলো ধরে বাজারে বিক্রি শুরু করা যায়।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট