কাতলা মাছ সম্পর্কে কিছু কথা
- শারীরিক গঠন: কাতলা মাছের মাথাটি শরীরের তুলনায় বেশ বড় এবং নিচের ঠোঁটটি বেশ মোটা হয়ে থাকে। এদের আঁশ ধূসর-রূপালী রঙের হয়।
- খাদ্যাভ্যাস: এরা মূলত পানির ওপরের স্তরের খাবার খায়। জু-প্লাংকটন বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলজ পোকা এদের প্রধান প্রিয় খাদ্য।
- দ্রুত বৃদ্ধি: কার্প জাতীয় মাছের মধ্যে কাতলা সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সঠিক খাবার ও যত্ন পেলে ১ বছরেই এর ওজন ১.৫ থেকে ২.৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।
- মিশ্র চাষের রাজা: কাতলা মাছ পুকুরের ওপরের স্তরের খাবার খায় বলে একে মধ্যস্তরের রুই এবং নিচের স্তরের মৃগেল মাছের সাথে চমৎকারভাবে মিশ্র চাষ করা যায়。
চাষ পদ্ধতি
১. পুকুর প্রস্তুতি ও চুন প্রয়োগ
- পুকুরের পাড় ভালো করে মেরামত করে তলার অতিরিক্ত কাদা তুলে ফেলতে হবে। রাক্ষুসে ও অপ্রয়োজনীয় মাছ দূর করতে জাল টেনে বা পুকুর শুকিয়ে নিতে হবে।
- এরপর প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। চুন দেওয়ার ১ সপ্তাহ পর পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার (প্লাংকটন) তৈরির জন্য প্রতি শতাংশে ৪ কেজি গোবর, ১৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০০ গ্রাম ইউরিয়া সার পানিতে গুলে ছিটিয়ে দিতে হবে।
২. পোনা মজুদকরণ
- পোনা নির্বাচন: ভালো ফলনের জন্য বিশ্বস্ত হ্যাচারি থেকে সুস্থ-সবল ও অন্তত ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি সাইজের ধানি পোনা সংগ্রহ করতে হবে।
- মজুদ ঘনত্ব: মিশ্র চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে কার্প জাতীয় মাছের মোট ৩০-৪০টি পোনা ছাড়া যায়, যার মধ্যে কাতলা মাছের সংখ্যা ৮ থেকে ১০টি রাখা ভালো। একক চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ৪০-৫০টি পোনা ছাড়া যেতে পারে।
৩. খাদ্য ব্যবস্থাপনা
- সম্পূরক খাদ্য: কাতলার দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে চালের কুঁড়া, গমের ভূষি ও সরিষার খৈল মিশিয়ে সম্পূরক খাবার দিতে হবে।
- খাবারটি মাছের মোট ওজনের ২-৩% হারে দিনে দুইবার (সকাল ও বিকেলে) প্রয়োগ করা উচিত। এছাড়া বাজারে কিনতে পাওয়া বাণিজ্যিক ফ্লোটিং ফিডও (ভাসমান খাবার) এরা খুব ভালো খায়।
৪. রোগ বালাই ও পরিচর্যা
- কাতলা মাছের প্রধান শত্রু হলো ক্ষত রোগ ও উকুন (আর্গুলুস)। শীতকালে এই রোগ বেশি দেখা যায়।
- রোগ প্রতিরোধে শীতের শুরুতে পুকুরে প্রতি শতাংশে ১০০-১৫০ গ্রাম চুন এবং লবণ প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে নিয়মিত হররা বা চেইন টানলে তলার ক্ষতিকর গ্যাস দূর হয় এবং মাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।