জমি ও পুকুর নির্বাচন এবং প্রস্তুতি
- স্থান নির্বাচন: বর্জ্য ও দূষণমুক্ত এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাওয়া যায় এমন উপকূলীয় জমি নির্বাচন করতে হবে।
- কাদা অপসারণ ও শুকানো: পুকুর বা ঘেরের তলার অতিরিক্ত কাদা দূর করে ভালো করে শুকাতে হবে।
- চুন ও ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ: রোগজীবাণু ও অনাকাঙ্ক্ষিত জীব ধ্বংস করতে প্রতি শতাংশে ২৫০ গ্রাম হারে কৃষি চুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করতে হবে।
- পানির গভীরতা: ঘেরে পানির গভীরতা অন্তত ৫ ফুট বা তার বেশি রাখা উচিত। [1, 2]
২. প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি
- পোনা ছাড়ার ৪-৫ দিন আগে পানিতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য (প্লাঙ্কটন) তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে।
- এর জন্য শতাংশ প্রতি সরিষার খৈল, চিটাগুড় এবং ইষ্ট পাউডারের মিশ্রণ প্রয়োগ করা যেতে পারে। [1]
৩. রোগমুক্ত পোনা সংগ্রহ ও ছাড়করণ
- পোনা নির্বাচন: ভাইরাস ও রোগমুক্ত নিশ্চিত করতে ল্যাবরেটরিতে PCR পরীক্ষিত হ্যাচারির পোনা (PL) সংগ্রহ করা সবচেয়ে নিরাপদ। পোনার বয়স কমপক্ষে ১৪-১৫ দিন হওয়া উচিত। [1, 2, 3]
- অভ্যস্তকরণ (Acclimatization): পোনা সরাসরি ঘেরের পানিতে না ছেড়ে পরিবহনের পাত্রের পানির সাথে ঘেরের পানি ধীরে ধীরে মিশিয়ে তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। [1, 2]
- মজুদ সময়: সাধারণত তীব্র রোদ এড়াতে সকাল বা সন্ধ্যার ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় পোনা মজুদ করা উচিত। [1]
৪. পানি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা
- সম্পূরক খাদ্য: চিংড়ির দ্রুত বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত মানসম্মত বাণিজ্যিক সুষম খাদ্য দিতে হবে। [1, 2]
- পানি পরিবর্তন: চাষের দুই মাস পর থেকে প্রতি মাসে অন্তত একবার ৩০-৪০% পানি পরিবর্তন করা ভালো, তবে প্রতিদিন ১০-১৫% এর বেশি পানি পরিবর্তন করা উচিত নয়। [1]
- অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণী নিয়ন্ত্রণ: ঘেরে পানি দেওয়ার সময় ছাকনি বা ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে যেন রাক্ষুসে মাছ বা ক্ষতিকর প্রাণী প্রবেশ করতে না পারে