Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:৩৯ অপরাহ্ণ

তৈলচিত্রের ভূত (মানিক বন্দোপাধ্যায়)
তৈলচিত্রের ভূত’ কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি বিখ্যাত কিশোর উপযোগী ছোটগল্প। গল্পটি মূলত অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদের এক অনন্য জয়গান। 
গল্পটির মূল বিষয়বস্তু, চরিত্র এবং রহস্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
মূল চরিত্রসমূহ
  • নগেন: গল্পের মূল চরিত্র, যে তার মৃত কৃপণ মামার তৈলচিত্র বা বাঁধাই করা ছবিকে কেন্দ্র করে এক অলৌকিক ভয়ের ফাঁদে পড়ে।
  • পরাশর ডাক্তার: একজন যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনস্ক অভিজ্ঞ চিকিৎসক, যিনি তাঁর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নগেনের মনের ভয় দূর করেন এবং অলৌকিক ঘটনার পেছনের আসল রহস্য উন্মোচন করেন। 
গল্পের মূল কাহিনী
নগেন তার কৃপণ মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। মামা বেঁচে থাকতে নগেনকে খুব একটা ভালোবাসতেন না বা টাকা-পয়সা দিতে কার্পণ্য করতেন। কিন্তু মৃত্যুর আগে মামা নগেনের নামে মোটা অঙ্কের উইল বা সম্পত্তি লিখে দিয়ে যান। মামার এই অপ্রত্যাশিত উপকারের কথা জানার পর নগেনের মনে তীব্র অপরাধবোধ (Guilt) জাগে যে, সে কেন বেঁচে থাকতে মামাকে এত ঘৃণা করত। 
এই অনুশোচনা থেকে নগেন একদিন মাঝরাতে চুপিচুপি বসার ঘরে গিয়ে দেওয়ালে টাঙানো মামার তৈলচিত্রটি ছুঁয়ে প্রণাম করার চেষ্টা করে। কিন্তু অলৌকিক উপায়ে ছবিটির ফ্রেম স্পর্শ করতেই সে এক প্রচণ্ড ধাক্কা (শক) খেয়ে ছিটকে পড়ে। পর পর কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটায় নগেন নিশ্চিত বিশ্বাস করে বসে যে, বেঁচে থাকতে মামাকে ভালোবাসেনি বলে মামার প্রেতাত্মা বা ভূত তাকে শাস্তি দিচ্ছে। ভয়ে ও আতঙ্কে নগেনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ভেঙে পড়ে এবং সে পরাশর ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। 
রহস্যের বৈজ্ঞানিক সমাধান
পরাশর ডাক্তার প্রথমে নগেনের কথা হেসে উড়িয়ে দিলেও পরে নিজে ওই ঘরে গিয়ে সত্যতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনিও যখন কাঠের সিঁড়িতে খালি পায়ে উঠে ছবিটির রুপার ফ্রেম স্পর্শ করেন, তখন তীব্র বৈদ্যুতিক শক অনুভব করেন। তবে জুতো পরা অবস্থায় ধরলে কোনো শক লাগত না।
অনুসন্ধান করে পরাশর ডাক্তার আসল রহস্য বের করেন:
  1. বৈদ্যুতিক সংযোগ: তৈলচিত্রের ঠিক পাশেই একটি ত্রুটিপূর্ণ ইলেকট্রিক সুইচবোর্ড ছিল। সেখান থেকে একটি লাইভ বা খোলা তার কোনোভাবে ফ্রেমের পেছনে ধাতব অংশের সংস্পর্শে এসে পুরো ফ্রেমটিকে বিদ্যুতায়িত করে রেখেছিল।
  2. আর্থিং বা ভূ-সংযোগ: নগেন যখনই খালি পায়ে মেঝেতে দাঁড়িয়ে রুপার ফ্রেম হাত দিয়ে ধরত, তখনই তার শরীরের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে মাটিতে চলে যেত (আর্থিং হতো), যার ফলে সে তীব্র বৈদ্যুতিক শক খেত।

পরাশর ডাক্তারের এই যুক্তিবাদী ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ঘটনাটি কোনো ভূতের কাজ ছিল না, বরং সম্পূর্ণ একটি বৈজ্ঞানিক দুর্ঘটনা। এতে নগেনের মনের সমস্ত কুসংস্কার ও ভীতি দূর হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট