Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:১৯ অপরাহ্ণ

শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ

 

শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ হলো মানবসমাজের প্রাচীনতম সামাজিক ব্যবস্থা। কৃষিকাজ ও পশুপালন শুরু হওয়ার আগে মানুষ প্রধানত বন্য পশু শিকার, মাছ ধরা এবং বন-জঙ্গল থেকে ফল, কন্দ, মূল, শাকপাতা ও বীজ সংগ্রহ করে জীবনধারণ করত।

🔹 প্রধান বৈশিষ্ট্য

শিকার: বন্য পশু ও পাখি শিকার করে মাংস সংগ্রহ করা হতো।

খাদ্য সংগ্রহ: বন থেকে ফল, কন্দ, মূল, মধু, শাকপাতা ইত্যাদি সংগ্রহ করা হতো।

মাছ ধরা: নদী, হ্রদ ও জলাশয় থেকে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী সংগ্রহ করা হতো।

যাযাবর জীবন: খাদ্যের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হতো।

সহযোগিতামূলক জীবন: দলবদ্ধভাবে শিকার ও খাদ্য সংগ্রহ করা হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে সংগৃহীত খাদ্য ভাগ করে খাওয়া হতো।

সরল প্রযুক্তি: পাথর, কাঠ ও হাড় দিয়ে তৈরি সহজ অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হতো।

ছোট দল: সাধারণত আত্মীয়তা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ছোট ছোট দলে বসবাস করত।

🌿 সমাজের জীবনযাপন

এই সমাজে মানুষের প্রধান লক্ষ্য ছিল প্রকৃতি থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকা। তারা স্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি না করে গুহা, অস্থায়ী কুটির বা প্রাকৃতিক আশ্রয়ে বসবাস করত। আগুনের ব্যবহার তাদের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে—খাদ্য রান্না, আলো ও উষ্ণতার জন্য আগুন ব্যবহৃত হতো।

📌 সংক্ষেপে

শিকার → খাদ্য সংগ্রহ → দলবদ্ধ জীবন → যাযাবর জীবন → প্রকৃতিনির্ভর জীবন

👉 অর্থাৎ, যে সমাজে মানুষ কৃষিকাজ বা উৎপাদনের পরিবর্তে প্রধানত শিকার, মাছ ধরা এবং প্রকৃতি থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে জীবনধারণ করত, তাকে শিকার ও খাদ্য সংগ্রহভিত্তিক সমাজ বলা হয়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট