তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) পাঠ্যবইয়ের আলোকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর (ফেসবুক, এক্স/টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন) বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হলো:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কী?
ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষের সাথে মানুষের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া, তথ্য আদান-প্রদান এবং সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমই হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
১. ফেসবুক (Facebook)
- প্রতিষ্ঠাতা ও সময়: মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর বন্ধুদের হাত ধরে ২০০৪ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি এটি চালু হয়।
- মূল বৈশিষ্ট্য: বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
- কার্যক্রম:
- প্রোফাইল তৈরি ও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়া।
- স্ট্যাটাস (লেখা), ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা।
- লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করা।
- মেসেঞ্জারের (Messenger) মাধ্যমে সরাসরি বার্তা আদান-প্রদান এবং অডিও-ভিডিও কল করা।
- বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজ তৈরি করে সামাজিক বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
২. এক্স বা টুইটার (X / Twitter)
- প্রতিষ্ঠাতা ও সময়: জ্যাক ডরসি, নোয়াহ গ্লাস, বিজ স্টোন এবং ইভান উইলিয়ামস দ্বারা ২০০৬ সালের মার্চ মাসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২২ সালে এটি ইলন মাস্ক কিনে নেন এবং পরবর্তীতে এর নাম পরিবর্তন করে 'X' (এক্স) রাখা হয়।
- মূল বৈশিষ্ট্য: একে মাইক্রোব্লগিং (Microblogging) ওয়েবসাইট বলা হয়। কারণ এখানে খুব বড় লেখা পোস্ট করা যায় না।
- কার্যক্রম:
- ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ২৮০ অক্ষরের মধ্যে বার্তা বা মনের ভাব প্রকাশ করতে পারেন (টুইট বা পোস্ট)।
- অন্যের পোস্ট নিজের ওয়ালে শেয়ার করাকে রিটুইট (বা রিপোস্ট) বলা হয়।
- সমসাময়িক বা ট্রেন্ডিং বিষয়গুলো সহজে খোঁজার জন্য হ্যাশট্যাগ (#) ব্যবহার করা হয়।
- সেলিব্রিটি, রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের মধ্যে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
৩. ইনস্টাগ্রাম (Instagram)
- প্রতিষ্ঠাতা ও সময়: কেভিন সিস্ট্রম এবং মাইক ক্রিগার দ্বারা ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে এটি চালু হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে ফেসবুক (মেটা) এটি কিনে নেয়।
- মূল বৈশিষ্ট্য: এটি সম্পূর্ণ ছবি এবং ভিডিও (Visual content) ভিত্তিক একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
- কার্যক্রম:
- ব্যবহারকারীরা ছবি ও ছোট ছোট ভিডিও (Reels) বিভিন্ন ফিল্টার ব্যবহার করে আকর্ষণীয়ভাবে পোস্ট করতে পারেন।
- এখানেও হ্যাশট্যাগের (#) ব্যবহার খুব জনপ্রিয়, যা নির্দিষ্ট বিষয়ের ছবি সহজে খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
- তরুণ প্রজন্ম এবং অনলাইন ব্যবসার (ই-কমার্স) জন্য ইনস্টাগ্রাম অত্যন্ত কার্যকরী একটি মাধ্যম।
৪. লিংকডইন (LinkedIn)
- প্রতিষ্ঠাতা ও সময়: রিড হফম্যান এবং তাঁর বন্ধুদের দ্বারা ২০০২ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০০৩ সালের মে মাসে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। ২০১৬ সালে মাইক্রোসফট এটি কিনে নেয়।
- মূল বৈশিষ্ট্য: এটি সাধারণ বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি পেশাদার বা প্রাতিষ্ঠানিক (Professional) নেটওয়ার্কিং সাইট।
- কার্যক্রম:
- চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং শিক্ষার্থীরা পেশাদার কাজের জন্য এটি ব্যবহার করেন।
- ব্যবহারকারীরা এখানে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা তুলে ধরে একটি অনলাইন 'সিভি' বা রেজুমে তৈরি করেন।
- নতুন চাকরির সন্ধান করা, কোম্পানির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা এবং পেশাদার ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ (Networking) করার জন্য এটি বিশ্বের সেরা মাধ্যম।