সহকারী শিক্ষক
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:০৯ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১২
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে যে বিশাল স্থান বিস্তৃত, তাকে মহাকাশ বলে। মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, গ্রহাণু, গ্যালাক্সি ইত্যাদি রয়েছে।
মহাকাশ অত্যন্ত বিশাল। সেখানে বায়ুর পরিমাণ অত্যন্ত কম এবং পৃথিবীর মতো জীবনের উপযোগী পরিবেশ নেই।
মহাকাশে অবস্থিত প্রাকৃতিক বস্তুসমূহকে জ্যোতিষ্ক বলা হয়।
প্রধান জ্যোতিষ্ক হলো—
যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো ও তাপ রয়েছে, তাদের নক্ষত্র বলে।
সূর্য একটি নক্ষত্র।
নক্ষত্রগুলো অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাস দিয়ে গঠিত এবং পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। রাতের আকাশে অসংখ্য নক্ষত্র দেখা যায়।
সূর্য সৌরজগতের কেন্দ্রীয় নক্ষত্র।
সূর্য থেকে পৃথিবী আলো ও তাপ পায়। সূর্যের মহাকর্ষ বলের কারণে গ্রহগুলো নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্বের জন্য সূর্যের আলো ও তাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব জ্যোতিষ্ক কোনো নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে এবং যাদের নিজস্ব আলো ও তাপ নেই, তাদের গ্রহ বলে।
সৌরজগতের ৮টি গ্রহ হলো—
১. বুধ
২. শুক্র
৩. পৃথিবী
৪. মঙ্গল
৫. বৃহস্পতি
৬. শনি
৭. ইউরেনাস
৮. নেপচুন
যেসব জ্যোতিষ্ক কোনো গ্রহকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে, তাদের উপগ্রহ বলে।
চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ।
চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্যের আলো চাঁদের পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পৌঁছানোর কারণে চাঁদকে উজ্জ্বল দেখায়।
সূর্য এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণকারী সব জ্যোতিষ্কের সমষ্টিকে সৌরজগৎ বলে।
সৌরজগতের প্রধান উপাদান হলো—
সমগ্র স্থান, কাল, পদার্থ, শক্তি এবং সব ধরনের জ্যোতিষ্কের সমষ্টিকে মহাবিশ্ব বলে।
মহাবিশ্ব অত্যন্ত বিশাল। এতে অসংখ্য গ্যালাক্সি রয়েছে। প্রতিটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে অসংখ্য নক্ষত্র।
অসংখ্য নক্ষত্র, গ্যাস, ধূলিকণা এবং অন্যান্য জ্যোতিষ্ক মহাকর্ষ বলের প্রভাবে একত্রে যে বিশাল ব্যবস্থা তৈরি করে তাকে গ্যালাক্সি বলে।
আমাদের সৌরজগৎ যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম আকাশগঙ্গা (Milky Way)।
আকাশগঙ্গা একটি বিশাল সর্পিলাকার গ্যালাক্সি।
এতে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। আমাদের সূর্যও আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সির একটি নক্ষত্র এবং সৌরজগৎ এই গ্যালাক্সির একটি ক্ষুদ্র অংশ।
ধূলিকণা, বরফ ও বিভিন্ন গ্যাস দিয়ে গঠিত যে জ্যোতিষ্ক সূর্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘপথে পরিভ্রমণ করে তাকে ধূমকেতু বলে।
ধূমকেতু সূর্যের কাছে এলে সূর্যের তাপে এর গ্যাস ও ধূলিকণা উজ্জ্বল হয়ে লেজের মতো অংশ তৈরি করে।
সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণকারী ছোট ছোট পাথুরে বা ধাতব জ্যোতিষ্ককে গ্রহাণু বলে।
মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী অঞ্চলে অসংখ্য গ্রহাণু রয়েছে। এই অঞ্চলকে গ্রহাণু বলয় বলা হয়।
মহাকাশ সম্পর্কে জানার জন্য মানুষ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। যেমন—
মহাকাশ গবেষণার মাধ্যমে মহাবিশ্বের উৎপত্তি, গঠন এবং বিভিন্ন জ্যোতিষ্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যায়।
সূর্য → নক্ষত্র
পৃথিবী → গ্রহ
চাঁদ → পৃথিবীর প্রাকৃতিক উপগ্রহ
সূর্য + গ্রহ + উপগ্রহসহ অন্যান্য জ্যোতিষ্ক → সৌরজগৎ
সৌরজগৎ → আকাশগঙ্গা গ্যালাক্সির অংশ
অসংখ্য গ্যালাক্সি → মহাবিশ্বের অংশ
নক্ষত্র → গ্যালাক্সি → মহাবিশ্ব
সূর্য → সৌরজগৎ → আকাশগঙ্গা → মহাবিশ্ব