কুটির শিল্পের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য
সংজ্ঞা: বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (BSCIC)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে শিল্পে যন্ত্রপাতিসহ বা ছাড়া সর্বাধিক ১০ জন শ্রমিক কাজ করে অথবা শিল্পনীতি অনুযায়ী যার স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার কম এবং শ্রমিক সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০ জন, তাকে কুটির শিল্প বলা হয়। [
1,
2,
3]
প্রধান বৈশিষ্ট্য:- এটি মূলত পরিবারকেন্দ্রিক।
- এতে দেশীয় ও স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়।
- কারিগরদের জন্মগত মেধা ও বংশপরম্পরায় পাওয়া দক্ষতার প্রতিফলন ঘটে।
- এতে নারী শ্রমিকের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৭০%)।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে নানা ধরনের কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে:
নকশিকাঁথা: বিশেষ করে জামালপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হস্তশিল্প।
বস্ত্রশিল্প: জামদানি, তাঁতের শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী মসলিন।
মাটির কাজ ও মৃৎশিল্প: তৈজসপত্র ও পোড়ামাটির বা টেরাকোটা শিল্প।
বাঁশ ও বেতের কাজ: চেয়ার, টেবিল, কুচো, নানা ধরনের শৌখিন ও গৃহস্থালি সামগ্রী।
শীতলপাটি: হস্তনির্মিত ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি।
পাটজাত শিল্প: পাট দিয়ে তৈরি ব্যাগ, শিকা, ম্যাট ও নানা হস্তশিল্প।
ধাতব ও অলংকার শিল্প: কাঁসা ও পিতলের বাসনপত্র এবং ঐতিহ্যবাহী গহনা।
অর্থনীতিতে ভূমিকা ও পরিসংখ্যান
জনশক্তি ও পরিবার: দেশের প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ পরিবার কুটির শিল্পের সাথে যুক্ত এবং প্রায় ৫০ লাখের বেশি মানুষ এতে কর্মসংস্থান পায়।
জিডিপি ও কর্মসংস্থান: জাতীয় জিডিপিতে এই খাতের অবদান ৩ থেকে ৭ শতাংশ এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে এর অবদান ৪০ শতাংশের বেশি।
🔆পুঁজি বা মূলধন সংকট।
🔆ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার।
🔆বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য।
🔆আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও যথাযথ প্রচারের ঘাটতি।