সহকারী শিক্ষক
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১২
শিক্ষক: মোঃ নাজুমল হোসাইন পদবি: সহকারি শিক্ষক বিভাগ: ভৌতবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান: বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়
মানুষের তৈরি যেসব উপগ্রহকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে পৃথিবী বা অন্য কোনো গ্রহের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়, তাদের কৃত্রিম উপগ্রহ বলে।
উদাহরণ: যোগাযোগ উপগ্রহ, আবহাওয়া উপগ্রহ ও নেভিগেশন উপগ্রহ।
কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর চারদিকে যে নির্দিষ্ট পথে ঘুরে, তাকে উপগ্রহের কক্ষপথ বলে।
কক্ষপথ বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার হতে পারে।
পৃথিবীর মহাকর্ষ বল উপগ্রহকে পৃথিবীর দিকে আকর্ষণ করে।
উপগ্রহের যথাযথ গতির কারণে এটি পৃথিবীতে পড়ে না গিয়ে কক্ষপথে ঘুরতে থাকে।
কৃত্রিম উপগ্রহকে রকেটের সাহায্যে মহাকাশে পাঠানো হয়। প্রয়োজনীয় উচ্চতায় পৌঁছানোর পর উপযুক্ত বেগে উপগ্রহটিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করা হয়।
উপগ্রহের গতির দিকের লম্বভাবে পৃথিবীর মহাকর্ষ বল কাজ করে। এই মহাকর্ষ বল উপগ্রহের বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার গতির জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্রাভিমুখী বল সরবরাহ করে।
কৃত্রিম উপগ্রহের ওপর পৃথিবীর মহাকর্ষ বল কাজ করে। উপগ্রহের সামনের দিকে যথাযথ বেগ থাকায় এটি ক্রমাগত পৃথিবীর দিকে পড়তে থাকলেও পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছায় না; বরং পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে।
অর্থাৎ, মহাকর্ষ বল ও উপগ্রহের উপযুক্ত গতির সমন্বয়ে কক্ষপথে চলা সম্ভব হয়।
কৃত্রিম উপগ্রহের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষপথ হলো—
নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথ (LEO): পৃথিবীর কাছাকাছি অবস্থিত কক্ষপথ।
মধ্য পৃথিবী কক্ষপথ (MEO): নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথের চেয়ে উঁচু কক্ষপথ।
ভূস্থির কক্ষপথ (GEO): বিষুবরেখার ওপর এমন কক্ষপথ, যেখানে উপগ্রহ পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে একই কৌণিক বেগে ঘোরে। ফলে পৃথিবী থেকে একে আকাশের একই স্থানে স্থির মনে হয়।
কৃত্রিম উপগ্রহের প্রধান ব্যবহারগুলো হলো—
টেলিভিশন ও টেলিযোগাযোগে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে।
GPS-এর মাধ্যমে অবস্থান ও দিকনির্ণয়ে।
দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ ও সতর্কবার্তা দিতে।
কৃষি, বন ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে।
মহাকাশ গবেষণায়।
এটি পৃথিবীর বিষুবরেখার ওপর বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘোরে।
পৃথিবীর আবর্তনকালের সমান সময়ে একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে—প্রায় ২৪ ঘণ্টা।
পৃথিবী থেকে দেখলে একে একই স্থানে স্থির মনে হয়।
টেলিযোগাযোগ ও আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণে এটি ব্যবহৃত হয়।
কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষের তৈরি।
রকেটের সাহায্যে উপগ্রহকে মহাকাশে পাঠানো হয়।
পৃথিবীর মহাকর্ষ বল উপগ্রহকে কক্ষপথে রাখতে প্রয়োজনীয় কেন্দ্রাভিমুখী বল দেয়।
উপগ্রহের বেগ ও কক্ষপথের উচ্চতা তার গতিকে প্রভাবিত করে।
কৃত্রিম উপগ্রহ আধুনিক যোগাযোগ, আবহাওয়া ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রশ্ন ১: কৃত্রিম উপগ্রহ কাকে বলে? উত্তর: মানুষের তৈরি যে উপগ্রহ কোনো গ্রহের চারদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে, তাকে কৃত্রিম উপগ্রহ বলে।
প্রশ্ন ২: কক্ষপথ কী? উত্তর: উপগ্রহ যে নির্দিষ্ট পথে পৃথিবী বা অন্য কোনো গ্রহের চারদিকে ঘোরে, তাকে কক্ষপথ বলে।
প্রশ্ন ৩: উপগ্রহকে কক্ষপথে রাখে কোন বল? উত্তর: পৃথিবীর মহাকর্ষ বল উপগ্রহের প্রয়োজনীয় কেন্দ্রাভিমুখী বল সরবরাহ করে।
প্রশ্ন ৪: কৃত্রিম উপগ্রহের দুটি ব্যবহার লেখো। উত্তর: টেলিযোগাযোগ এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদান।
প্রশ্ন ৫: ভূস্থির উপগ্রহকে স্থির মনে হয় কেন? উত্তর: এটি পৃথিবীর আবর্তনের সঙ্গে একই কৌণিক বেগে ঘোরে বলে পৃথিবী থেকে একে আকাশের একই স্থানে স্থির মনে হয়।
কৃত্রিম উপগ্রহ আধুনিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। পৃথিবীর মহাকর্ষ বল এবং উপগ্রহের উপযুক্ত গতির সমন্বয়ে এটি কক্ষপথে চলতে পারে। যোগাযোগ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নেভিগেশন ও মহাকাশ গবেষণায় কৃত্রিম উপগ্রহের ভূমিকা অপরিসীম।
ধন্যবাদ।