Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ

বনজ বৃক্ষ মেহগনি
মেহগনি (বৈজ্ঞানিক নাম: Swietenia macrophylla) হলো একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও উন্নতমানের কাঠ উৎপাদনকারী চিরহরিৎ বা পত্রঝরা বনজ বৃক্ষ। এর আদি নিবাস উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলে হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে এটি অন্যতম প্রধান এবং জনপ্রিয় কাষ্ঠল উদ্ভিদ হিসেবে ব্যাপকভাবে রোপণ করা হয়। এই গাছটি সাধারণত ২০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা এবং এর কাণ্ড বেশ সোজা ও শক্ত হয়।
নিচে মেহগনি গাছের পরিচিতি, অর্থনৈতিক গুরুত্ব, চাষ পদ্ধতি ও কিছু ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. মেহগনি কাঠের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার
  • আসবাবপত্র তৈরি: মেহগনি কাঠ লালচে-বাদামী রঙের এবং অত্যন্ত টেকসই ও মজবুত হয়। এ কারণে বাসগৃহের দরজা-জানালা, খাট, আলমারি এবং নান্দনিক আসবাবপত্র তৈরিতে এটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
  • অন্যান্য ব্যবহার: বিলাসবহুল নৌকার কাঠামো এবং বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র তৈরিতে এই কাঠ ব্যবহার করা হয়। 
২. ঔষধি গুণ ও অন্যান্য উপকারিতা
  • রোগ প্রতিরোধে: ডায়াবেটিস রোগীরা সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য মেহগনি ফলের বিচির ভেতরের সাদা শাঁস পানিতে ভিজিয়ে খেয়ে থাকেন। এর বাকলের নির্যাস হজমশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে।
  • জৈব বালাইনাশক: মেহগনির বীজ গুঁড়ো করে পানিতে ফুটিয়ে চমৎকার জৈব বালাইনাশক তৈরি করা যায়, যা গাছের ক্ষতিকর পোকামাকড় দূর করে। 
৩. চাষ ও রোপণ পদ্ধতি
  • জমি নির্বাচন: সাধারণত মাঝারি এবং উঁচু জমিতে মেহগনি গাছ খুব ভালো জন্মায়।
  • সময় ও চারা উৎপাদন: মার্চ-এপ্রিল মাসে এর বীজ সংগ্রহ করে নার্সারিতে চারা তৈরি করা হয় এবং জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে চারা জমিতে বা রাস্তার পাশে রোপণ করা হয়। 
৪. পরিবেশগত কিছু নেতিবাচক দিক (সতর্কতা)
মেহগনি আমাদের দেশে অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক হলেও এর কিছু অপকারী দিক রয়েছে: 
  • এর পাতার রস মাটির উর্বরতা কিছুটা হ্রাস করে এবং পাতা পচা পানি মাছ চাষের ক্ষতি করতে পারে।
  • মেহগনির ফল বা পাতা দেশীয় পাখি কিংবা গবাদিপশু সাধারণত খায় না এবং এই গাছে পাখিরা সহজে বাসা বাঁধে না। 
মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট