গঠন: মেহগনির পাতা যৌগিক এবং দেখতে কিছুটা পালকের মতো। একটি প্রধান বোঁটা বা ডাঁটার দুই পাশে জোড়ায় জোড়ায় একাধিক ছোট ছোট পাতা বা পর্ণক সাজানো থাকে।
রঙ ও আকার: নতুন পাতা গজানোর সময় কিছুটা তামাটে বা লালচে রঙের হলেও পরে তা গাঢ় সবুজ বর্ণ ধারণ করে। পাতাগুলো সাধারণত মসৃণ ও চকচকে হয়।
বৈশিষ্ট্য: শীতকালে মেহগনি গাছের সব পাতা ঝরে যায়। এর পাতার রস প্রাকৃতিকভাবে কীটপতঙ্গ দমনে বা বালাইনাশক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
২. মেহগনির ফুল
রঙ ও গন্ধ: মেহগনি গাছে ছোট ছোট এবং সুগন্ধি ফুল ফোটে। ফুলগুলোর রঙ সাধারণত সবুজাভ-সাদা, হালকা হলদেটে বা হালকা বেগুনি-হলুদ হয়ে থাকে।
বিন্যাস: ফুলগুলো এককভাবে ফোটে না, বরং শাখার অগ্রভাগে থোকা বা গুচ্ছ আকারে (Panicles) সজ্জিত থাকে।
পাপড়ি: প্রতিটি ফুলে ৫টি করে পাপড়ি থাকে এবং এর সুবাস কিছুটা জেসমিন বা জুঁই ফুলের মতো।
৩. মেহগনির ফল ও বীজ
আকার ও রূপ: মেহগনির ফল বেশ বড়, ডিম্বাকৃতি এবং শক্ত কাঠের মতো শক্ত খোসাযুক্ত (Woody capsule) হয়। এর রঙ হালকা ধূসর থেকে বাদামি হয়।
আকাশী ফল বা Sky Fruit: এই ফলগুলো গাছের ডালে নিচের দিকে ঝুলে না থেকে সোজা আকাশের দিকে মুখ করে খাড়া হয়ে থাকে। একারণে বিশ্বব্যাপী এটিকে "স্কাই ফ্রুট" (Sky Fruit) বা আকাশী ফল বলা হয়।
বীজ: ফলটি যখন পুরোপুরি পেকে যায়, তখন এটি নিচ থেকে ফেটে ৫টি ভাগে ভাগ হয়ে যায় এবং ভেতর থেকে পাখাবিশিষ্ট বহু বাদামি বীজ বাতাসে ভেসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই বীজগুলো স্বাদে অত্যন্ত তেতো হয়।