নিম (বৈজ্ঞানিক নাম: Azadirachta indica) মেহগনি পরিবারের একটি বহুবর্ষজীবী, চিরহরিৎ ও দ্রুত বর্ধনশীল ঔষধি বৃক্ষ, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
আকৃতি ও উচ্চতা: একটি পূর্ণবয়স্ক নিম গাছ সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিটার (বা প্রায় ৪০-৫০ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
ডালপালা ও পাতা: গাছের কচি ডালের রং খয়েরি হলেও বয়স্ক ডালের রং গাঢ় ও অমসৃণ হয়। ডালের চারদিকে যৌগিক পাতা জন্মায়।
উপযোগিতা: নিম গাছের পাতা, ডাল, ফুল, ফল, বীজ, তেল, ছাল, শিকড় এবং কাঠ—সবকিছুই মানুষের কাজে লাগে।
জীবনকাল: অনুকূল পরিবেশে নিম গাছ শত শত বছর (৫০০ থেকে ১০০০ বছর পর্যন্ত) বেঁচে থাকতে পারে।
প্রধান ঔষধি গুণ ও ব্যবহার
ত্বকের যত্ন: নিম পাতা ও নিম তেল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল (ব্যাকটেরিয়ারোধী) ও অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। ব্রণ, খোস-পাঁচড়া, একজিমা, অ্যালার্জি ও চর্মরোগ নিরাময়ে এটি দারুণ উপকারী।
দাঁতের স্বাস্থ্য: নিমের ডাল বা মিসওয়াক দাঁতের মাড়ি শক্ত রাখে, মুখেকুশূর দুর্গন্ধ দূর করে এবং দাঁতের ক্ষয়রোধে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে নিম পাতার রস বা নির্যাস খেলে রক্ত পরিষ্কার হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
কৃমি ও অন্যান্য রোগ: পেটের কৃমি দূর করতে, খুশকি ও উকুন দমনে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিম কার্যকর ভূমিকা রাখে।
জৈব কীটনাশক: নিম পাতা বা বীজ থেকে তৈরি জৈব কীটনাশক পরিবেশের ক্ষতি না করেই ফসল ও গাছের পোকা-মাকড় দমন করে।