Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

ভূমিক্ষয় ও ক্ষয়রোধ

১. ভূমিক্ষয় কী?

বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে জমির উপরিভাগের উর্বর মাটির স্তর পানি, বায়ু বা অন্য কোনো শক্তির মাধ্যমে অপসারিত হওয়াকে ভূমিক্ষয় বলে।

ভূমির উপরিভাগের মাটিতে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। তাই এই মাটি ক্ষয় হলে জমির উর্বরতা কমে যায় এবং ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়।

We Can't Change the Rain. But We Can Change What Comes Next.
Jorderosion der truer dyrkningssikkerheden | Maskinbladet
Soil Erosion by Water - Wikibooks, open books for an open world
9

২. ভূমিক্ষয়ের কারণ

ভূমিক্ষয়ের প্রধান কারণগুলো হলো—

1. অতিবৃষ্টি ও বন্যা: অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ও বন্যার স্রোতে মাটির উপরিভাগের উর্বর অংশ সরে যায়।

2. বায়ুপ্রবাহ: প্রবল বাতাস শুষ্ক ও আলগা মাটি উড়িয়ে নিয়ে যায়।

3. বন উজাড়: গাছপালা কেটে ফেললে মাটি ধরে রাখার শিকড় কমে যায়।

4. অপরিকল্পিত চাষাবাদ: ঢালু জমিতে ভুল পদ্ধতিতে চাষ করলে মাটি সহজে ক্ষয় হয়।

5. অতিরিক্ত পশুচারণ: অতিরিক্ত পশুচারণের ফলে ঘাস ও অন্যান্য উদ্ভিদ নষ্ট হয়।

6. নদীভাঙন: নদীর প্রবল স্রোতে নদীর তীরের জমি ভেঙে যায়।

৩. ভূমিক্ষয়ের প্রকারভেদ

  • পানিজনিত ক্ষয়: বৃষ্টির পানি, বন্যা ও নদীর স্রোতে মাটি ক্ষয় হওয়া।

  • বায়ুজনিত ক্ষয়: বাতাসের মাধ্যমে মাটির কণা উড়ে যাওয়া।

  • নদীভাঙনজনিত ক্ষয়: নদীর স্রোতে নদীর তীরের ভূমি ভেঙে যাওয়া।

  • নালিক্ষয়: পানির প্রবাহে জমিতে ছোট-বড় নালার সৃষ্টি হওয়া।

৪. ভূমিক্ষয়ের ক্ষতিকর প্রভাব

1. মাটির উর্বরতা কমে যায়।

2. ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়।

3. কৃষিজমির পরিমাণ কমে যায়।

4. নদী ও জলাশয়ে পলি জমে যায়।

5. পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

6. খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৫. ভূমিক্ষয় রোধের উপায়

China Launches Open Source AI Model to Support the Agricultural Sector | Express TV
Tips para aprovechar mejor el agua desde el cuidado del suelo – CIMMYT
Fidanlar bozkırın topraklarına erozyonla mücadele için dikiliyor
7

ভূমিক্ষয় রোধের কার্যকর উপায়গুলো হলো—

1. বৃক্ষরোপণ: বেশি করে গাছ লাগালে গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে।

2. বন সংরক্ষণ: নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।

3. ধাপ পদ্ধতিতে চাষ: পাহাড়ি ও ঢালু জমিতে ধাপ তৈরি করে চাষ করতে হবে।

4. কন্টুর পদ্ধতিতে চাষ: ঢালু জমির সমোচ্চ রেখা বরাবর চাষ করলে পানির প্রবাহের গতি কমে।

5. ঘাস ও আচ্ছাদন ফসল লাগানো: জমি উদ্ভিদ দিয়ে ঢেকে রাখলে মাটি সহজে সরে যায় না।

6. বাঁধ নির্মাণ: প্রয়োজন অনুযায়ী জমি ও নদীর তীরে বাঁধ তৈরি করতে হবে।

7. পরিকল্পিত সেচ ও পানি নিষ্কাশন: জমিতে পানির অতিরিক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

8. অতিরিক্ত পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ: জমির ঘাস ও উদ্ভিদ রক্ষা করতে হবে।

৬. ভূমিক্ষয় ও ক্ষয়রোধের গুরুত্ব

ভূমিক্ষয় রোধ করলে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে, কৃষিজমি রক্ষা পায়, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিক্ষয় রোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন