Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সৃষ্টির সেবা : একটি মহৎ গুণ

সৃষ্টির সেবা: মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম পথ

লেখক: মোহাম্মদ নবী

ভূমিকা

সৃষ্টির সেবা একটি মহৎ মানবিক গুণ। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ, প্রাণী ও জীবজন্তু মহান আল্লাহর সৃষ্টি। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে তাঁর সৃষ্টির কল্যাণে কাজ করা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, অসহায়কে সাহায্য করা, অসুস্থের সেবা করা, এতিমের পাশে দাঁড়ানো এবং পশুপাখির প্রতি দয়া প্রদর্শন—সবই সৃষ্টির সেবার অন্তর্ভুক্ত।

ইসলামের দৃষ্টিতে সৃষ্টির সেবা

ইসলাম মানুষকে ভালোবাসা, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন—

“আর তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অন্যকে সহযোগিতা করো।”

—সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ২

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার একটি বিপদ দূর করে দেবেন।”

—সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯

এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং কল্যাণকর কাজে সহযোগিতা করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ।

কীভাবে সৃষ্টির সেবা করব?

আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সৃষ্টির সেবা করতে পারি। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবেশীর খোঁজখবর নেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করা, গাছ লাগানো, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্রাণীদের প্রতি সদয় আচরণ করা—এসব কাজের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারি।

সৃষ্টির সেবা করতে সব সময় প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয় না। একটি ভালো কথা, সামান্য সহযোগিতা কিংবা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও অনেক বড় অবদান হতে পারে।

উপসংহার

সৃষ্টির সেবা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সব সৃষ্টির প্রতি দয়া ও মমতা প্রদর্শন করা।

আসুন, আমরা প্রতিজ্ঞা করি—নিজে ভালো থাকব, অন্যকে ভালো রাখব এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর সৃষ্টির সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখব।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট