সহকারী শিক্ষক
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৭
শিক্ষক: মোঃ নাজুমল হোসাইন পদবি: সহকারী শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান: বনগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়
মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি ভরযুক্ত বস্তুর মধ্যে যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল কাজ করে, তাকে মহাকর্ষ বল বলে।
উদাহরণ:
পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে।
চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
পৃথিবীর আকর্ষণে গাছ থেকে ফল মাটিতে পড়ে।
পৃথিবী যে আকর্ষণ বলের মাধ্যমে কোনো বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে, তাকে অভিকর্ষ বল বলে।
উদাহরণ:
হাত থেকে ছেড়ে দিলে একটি কলম মাটিতে পড়ে।
ওপরের দিকে ছুড়ে দেওয়া বল আবার নিচে ফিরে আসে।
বৃষ্টির ফোঁটা মাটির দিকে পড়ে।
মহাকর্ষ: মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি ভরযুক্ত বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল।
অভিকর্ষ: পৃথিবী কোনো বস্তুকে নিজের কেন্দ্রের দিকে যে আকর্ষণ বল প্রয়োগ করে।
বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন মহাকর্ষের সার্বজনীন সূত্র ব্যাখ্যা করেন।
সূত্রটি হলো:
মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু অন্য প্রতিটি বস্তুকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণ বল বস্তুর ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক।
সূত্রের গাণিতিক রূপ:
এখানে,
\(F\) = মহাকর্ষ বল
\(G\) = মহাকর্ষীয় ধ্রুবক
\(m_1\) ও \(m_2\) = বস্তু দুটির ভর
\(r\) = বস্তু দুটির কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব
মহাকর্ষ বল প্রধানত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
ক. বস্তুর ভর: বস্তুর ভর যত বেশি হবে, মহাকর্ষ বল তত বেশি হবে—অন্য সবকিছু অপরিবর্তিত থাকলে।
খ. বস্তু দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব: বস্তু দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব যত বাড়বে, মহাকর্ষ বল তত কমবে।
উদাহরণ: দুটি বস্তুর মধ্যবর্তী দূরত্ব দ্বিগুণ হলে মহাকর্ষ বল আগের এক-চতুর্থাংশ হয়, যদি তাদের ভর অপরিবর্তিত থাকে।
মহাকর্ষ আমাদের পৃথিবী ও মহাবিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে।
1. মহাকর্ষের কারণে আমরা পৃথিবীর মাটিতে থাকতে পারি।
2. মহাকর্ষের কারণে বস্তু পৃথিবীর দিকে পড়ে।
3. পৃথিবী মহাকর্ষ বলের কারণে সূর্যের চারদিকে কক্ষপথে ঘোরে।
4. চাঁদ পৃথিবীর মহাকর্ষের প্রভাবে পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে।
5. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ সমুদ্রের জোয়ার-ভাটায় ভূমিকা রাখে।
6. মহাকর্ষের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর চারপাশে ধরে থাকে।
কোনো বস্তুর ওপর পৃথিবী যে অভিকর্ষ বল প্রয়োগ করে, তা বস্তুটির ওজন।
ওজন নির্ণয়ের সূত্র:
এখানে,
\(W\) = বস্তুর ওজন
\(m\) = বস্তুর ভর
\(g\) = অভিকর্ষজ ত্বরণ
পৃথিবীপৃষ্ঠের কাছাকাছি \(g\)-এর মান প্রায় \(9.8\ \text{m/s}^2\)।
মনে রাখবে: ভর ও ওজন এক নয়। ভর হলো বস্তুর পদার্থের পরিমাণ, আর ওজন হলো বস্তুর ওপর ক্রিয়াশীল অভিকর্ষ বল।
মহাবিশ্বের দুটি ভরযুক্ত বস্তুর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে।
পৃথিবীর আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বল বলা হয়।
মহাকর্ষ বল বস্তুর ভর ও তাদের মধ্যবর্তী দূরত্বের ওপর নির্ভর করে।
মহাকর্ষের কারণে গ্রহ ও উপগ্রহ কক্ষপথে চলতে পারে।
বস্তুর ওজন নির্ণয় করা যায় \(W=mg\) সূত্রের সাহায্যে।
1. মহাকর্ষ বল কাকে বলে?
2. অভিকর্ষ বল কী?
3. মহাকর্ষ ও অভিকর্ষের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
4. নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রটি বিবৃত করো।
5. মহাকর্ষ বল কোন কোন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?
6. মহাকর্ষ বলের তিনটি গুরুত্ব লেখো।
7. ভর ও ওজনের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
8. বস্তুর ওজন নির্ণয়ের সূত্রটি লেখো।
সমাপ্ত।